কোমরপুরের শফিকুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা : পুলিশের মামলা দায়ের

আপলোড তারিখঃ 2017-09-24 ইং
কোমরপুরের শফিকুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা : পুলিশের মামলা দায়ের ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদার রামনগরে গরু চুরির অভিযোগে যুবকের ওপর স্বপন ও তার দলবলের নৃশংসতা নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার রামনগর গ্রামের কিবরিয়ার ছেলে স্বপন ও তার দলবল নৃশংসতা চালিয়ে গরু চুরির অভিযোগ এনে গভীর রাতে একই উপজেলার কোমরপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম শফিকে (৩১) কুপিয়ে ও নির্মমভাবে খুঁন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর স্বপন গংরা এই খুঁনের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে এলাকার জনসাধারণ ও সংবাদকর্মী এবং পুলিশের মাঝে  প্রচার করেছে শফি  রাতেই গণপিটুনিতে খুঁন হয়েছে । এলাকাবাসী ও শফির পরিবার শফি হত্যার বিচার দাবী করেছে। এছাড়া দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুদ্দিন বলেন, চোর হলেও চোরের বিচার আইনের কাঠগড়াই হতে হবে। কনো জনগণ আইন হাতে তুলে নেওয়া ঠিক নয় নিলে তা দন্ডনিয় অপরাধ এবং কেউ এমন কাজ করলে তা প্রমানিত হলে তা হত্যা মামলার শামিল এবং তার বিরুদ্ধে হত্যার বিচার হবে। এদিকে পুলিশ প্রশাসনও বিষয়টি তলিয়ে না দেখে গণপিটুনির দোহায় দিয়ে দামুড়হুদা থানার এস আই মেজবাহুর রহমানকে বাদী করে অজ্ঞাত আসামীদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। দামুড়হুদা থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুদ্দিন জানান, গত শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে দামুড়হুদা উপজেলার গোকুলখালি ও রামনগর মাঠের মধ্যে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এদিন রাতে রামনগর গ্রামের কিবরিয়ার ছেলে স্বপনের গোহাল ঘর থেকে দুটির গরু চুরি হয়ে যায়। স্বপনের স্ত্রী রাত একটার দিকে বাইরে বেরিয়ে গোহালে গরু দেখতে না পেয়ে তার স্বামী স্বপনকে জাগিয়ে তোলে। স্বপন গোহালে গরু নেই দেখে তার আত্মীয়স্বজন ও তার তলবল নিয়ে গ্রামের মাঠে তল্লাশী চালায় এসময় তারা স্বপন ও তার গংরা ঐ রাতেই তার গরু জোড়া উদ্ধার করে ভালাইপুর এসবি হ্যাচারির পাশের একটি কলা বাগান থেকে। এর পর গোকুলখালী রামনগর মাঠের মধ্যে ধাওয়া করে শফিসহ তার সঙ্গীদেরকে আটকের চেষ্টা করে। কিন্তু অন্যরা পালিয়ে রগেলেও স্বপন ও তার দলবল শফিকে ধরে ফেলে । এর পর তারা তাকে মাঠের মধ্যেই এলাপাতাড়ী কুপিয়ে ও লাঠি রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এর পর তারা  শফির অর্ধমৃত্যু নিথর দেহ নিয়ে যায় গ্রামের ক্লাবের কাছে। এখানে এনে বৈত্যুতিক খুঁটিতে তাকে পিটমোড়া দিয়ে বেঁধে চালানো হয় নির্যাতন। এসময় শফি বাঁচার আকুতি জানিয়ে স্বপনগং এর কাছে তাকে  ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানায়। কিন্তু স্বপন গংরা তাকে আবারও নিষ্ঠুর খেলায় মেতে ওঠে এবং রাতভোর নির্যাতন চালায় এক পর্যায়ে শফির মৃত্যু নিশ্চিত করে পুলিশকে খবর দেয় গণপিটুনিতে এক গরুচোর নিহত হয়েছে। স্বপনগং শফি হত্যাকান্ড থেকে নিজেদেরকে আড়াল করতে পুলিশ ঘটনা স্থলে গেলে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বুঝিয়ে দেয় গণপিটুনির শিকারে শফি নিহত হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও রহস্যজনক কারণে স্বপন গঙের কথামত শফি গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে  বলে ধরে নিয়েছে। তবে,অভিযোগ উঠেছে গণপিটিুনিতে শফি হত্যার ঘটনা মিথ্যা। কিন্তু স্বপনগং যতই আড়াল করুক না কেন ? এ ঘটনার প্রকৃত সত্য ঘটনা এলাকার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। গরু চুরির ঘটনার কয়েক ঘন্টার মাথায়  স্বপন ও তার গংরা গরুজোড়া ফিরে পাবার পরেও সন্দেহভাজন গরু চোর শফিকে পুলিশের কাছে না দিয়ে তাকে মাঠের মধ্যে পেয়ে র্নিমমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুঁন করে। নাম প্রকাশে ইচ্ছুক নয় এমন অনেকে অভিযোগের স্বরে বলেছেন ঘটনার পাশেই এক কিলো দুরে গোকুলখালী পুলিশ ক্যাম্প। এই ক্যাম্পের পুলিশ বিষয়টি জানার পরেও শফিকে পুলিশ হেফাজতে না নেওয়ার মানে এমনই যে সাধারণ জনতা স্বপন গংদেরকে আইন হাতে তুলে নিতে সাহায্য করেছে। স্বচেতন এলাকাবাসীদের মন্তব্য মানুষ চোর ডাকাত সন্দেহে আইন হাতে তুলে নিলে পুলিশ প্রশাসন ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারাবে এবং তারা দাবী করেছে এই শফি হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদের আটক করে উপযুক্ত বিচার করা হোক। চুয়াডাঙ্গার বিদায়ী পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দীন জানান, গরু চুরির অভিযোগ এনে শফি হত্যার বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে দোষী ব্যাক্তিদের আটক ও আইনের কাঠ গড়ায় নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন চোরের প্রতি ক্ষোভের বসবতি হয়ে জনগণ আইন হাতে তুলে নেবে এটা স্বচেতন কেউ কামনা করে না। পুলিশ প্রশাসনও বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখছে। এবিষয়ে রামনগরের কিবরিয়ার ছেলে স্বপনের কাছে জান্তে চাইলে তিনি বলেন আমি আমার গরু চুরির ঘটনার গরু উদ্ধারের জন্য মাঠের মধ্যে লোকজন নিয়ে চোর ধারা ও গরু উদ্ধারের জন্য চেষ্টার করি। রাত একটার দিকে ভালাইপুর ঐরাকা থেকে গরুজোড়া উদ্ধার করি এর পর চোর সন্দেহে শফিকে গ্রামবাসীরা ধরে গণপিটুনি দিলে সে মারা যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বপন ছাফাই গায় তিনি শফি হত্যার সাথে জড়িত নয়। এঘটনায় দামুড়হুদা ও জীবননগর সার্কেল মোহা. কলিমুলল্লা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)