ইচ্ছেমতো নামজারি ও অফিস করেন গাংনীর এসিল্যান্ড!

আপলোড তারিখঃ 2024-11-03 ইং
ইচ্ছেমতো নামজারি ও অফিস করেন গাংনীর এসিল্যান্ড! ছবির ক্যাপশন:

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা ভূমি অফিসে পদে পদে ঘুষ-দুর্নীতির কারণে এখানে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে করে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। অবৈধ লেনদেনকে ঘিরে এই অফিস কেন্দ্রিক শক্তিশালী দালালচক্রও গড়ে উঠেছে। আর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ইচ্ছেমতো অফিস করা, ভূমি মালিকদের হয়রানি ও অসৌজন্য মূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মাসের পর মাস নামজারিসহ নানা ফাইল পড়ে থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে ভূমি মালিক ও সেবা প্রত্যাশীদের। দ্রুত সময়ের মধ্যে নামজারিসহ কাজে গতি আনতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে ভুক্তভোগীরা।

গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক হারুন অর রশিদ রবি বলেন, অদক্ষ লোক দিয়ে গাংনীর মত বড় একটি উপজেলা চালানো সম্ভব নয়। তাই এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করে দক্ষ লোক দেওয়ার দাবি করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত, খতিয়ানের ভুল সংশোধন, নামজারি আপত্তি-নিষ্পত্তি, দেওয়ানি আদালতের রায় বা আদেশমূলে রেকর্ড সংশোধন, ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের আবেদন নিষ্পত্তি, কেসের আদেশের নকল বা সার্টিফায়েড কপি নিতে ভূমি মালিকরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।

``

বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিনিয়র সঙ্গীত শিল্পি ও পরিচালক আশরাফ মাহমুদ বলেন, ভূমি সংক্রান্ত একটি শুনানি রয়েছে। দুপুর ১২টায় সময় দিলেও বিকেল ৩ টা বেজে গেছে শুনানির কোনো খবর নেই। ইতঃপূর্বে কয়েকবার সারাদিন বসিয়ে রেখে সন্ধ্যায় বলেছে শুনানি হবে না। এই দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাহারবাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা একজন পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) বলেন, তাদের একটি জমি অন্যজন নামজারি করে নিয়ে গেছে। সেই নামজারি বাতিল করার জন্য দীর্ঘদিন ভূমি অফিসে ঘুরেও কোনো কাজ হয়নি। পরে দালালের মাধ্যমে কাজটি সমাধান করা হয়েছে। পৌর শহরের শিশিরপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ বলেন, প্রতিপক্ষের কাছে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসিল্যান্ড অফিস থেকে জারি করা নোটিশ তাকে না দিয়ে গায়েব করা হয়েছে। এ কারণে তার নামজারি বাতিল করেছে। পরবর্তীতে দিনের পর দিন ঘুরে আপিল করা হয়েছে। অবিলম্বে এসিল্যান্ড অফিসের অনিয়ম দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করতে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি কামনা করছি।

দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা জানান, নামজারি একেবারে কম হওয়ার কারণে দলিল রেজিষ্টিও কম হচ্ছে। একারণে মুহুরাদের কাজ নেই বললেই চলে। তাই দ্রুত নামজারি করার দাবি করেছেন তারা।
জানা গেছে, বিগত বছরে প্রতিমাসে প্রায় ৩ হাজার নামজারি সম্পন্ন করা হতো। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ্দাম হোসেনের যোগদানের পর থেকে প্রতি মাসে ৭০০ থেকে ৮০০ নামজারি করা হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে ভূমি মালিকরা। এদিকে নামজারি না থাকার কারণে জরুরি প্রয়োজনেও ভূমি রেজিস্ট্রিও করতে পারছে না অনেকে।

এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ্দাম হোসেনের অফিসে গেলে তিনি কথা বলতে রাজি হয়নি। আর জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, হয়রানির ঘটনা ঘটে থাকলে ভবিষ্যতে যাতে আর হয়রানির ঘটনা না ঘটে তার জন্য ব্যবস্থা নেব।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)