শশুর-শাশুড়িকে ফাঁসাতে নিজের গায়ে আগুন!

আপলোড তারিখঃ 2017-09-22 ইং
শশুর-শাশুড়িকে ফাঁসাতে নিজের গায়ে আগুন! ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা রোয়াকুলিতে পারিবারিক অর্ন্তদ্বন্ধে গৃহবধূর কূটকৌশল অবলম্বন পুড়ে গেছে শরীরের ৭৫ শতাংশ : ঢাকায় রেফার্ড : শাশুড়ি থানা হেফাজতে নিজস্ব প্রতিবেদক/ আলমডাঙ্গা অফিস: চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার রোয়াকুলিতে পারিবারিক অর্ন্তদ্বন্ধে শশুর-শাশুড়িকে ফাঁসাতে নিজের গায়ে কোরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করেন। এদিকে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর শাশুড়িকে হেফাজতে নিয়েছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ ঘরের দরজা লাগিয়ে নিজের শিশু সন্তানের সামনেই কেরোসিন ঢেলে নিজের শরীরে আগুন লাগায় গৃহবধূ আলিফা খাতুন মিতালী (২০)। সে রোয়াকুলি মসজিদপাড়ার বিজিবি চাকুরীরত খালিদ হাসান সুমনের স্ত্রী। আগুন পুরোশরীরে ছড়িয়ে পড়লে তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘরের দরজা ভেঙে তাকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ছাড়াও প্রতিবেশীরা অভিযোগের সুরে বলেন, বিবাহের সময় মিতালীর বাবা তার জামাই সুমনের অসচ্ছল অবস্থার কারণে নগদ ৩ লাখ টাকা দিয়েছিল। পরে সেই টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রায়ই চাপ সৃষ্টি করতো মিতালী। এ ছাড়া বিভিন্ন তাল বাহানা দেখিয়ে শশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি চিৎলাতে থাকতো সে। কয়েকদিন আগে তার ভগ্নিপতি ও সাবেক মেম্বার তাকে বাবার বাড়ি থেকে শশুরবাড়িতে নিয়ে আসে। ঘটনার দিন সকালে তাদের সংসার আলাদাও করে দেওয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাশুড়িকে হেনেস্তা করতে এ কান্ড ঘটায়। ‘অজ্ঞাত কারণে নিজের শরীরে নিজেই আগুন লাগিয়েছেন গৃহবধূ মিতালী’। সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমদিকে এ কথা অকপটে স্বীকার করলেও পরবর্তীতে সাথে থাকা পরিবারের লোকজনের প্ররোচনায় মিতালী বলে ‘আমার শাশুড়ি লালিয়া বেগম পেট্রোল ঢেলে আমার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া মাঝে মাঝেই আমার শাশুড়ি আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এমনকি গর্ভকালীন অবস্থায় বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনসহ একবার খাটের উপর থেকে আমাকে ফেলে দেয় সে’। সরেজমিনে মিতালীর শশুরবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, যে ঘর থেকে সে অগ্নিদগ্ধ হয়েছে সেই ঘর বা তার আশপাশে পেট্রোলের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘরে আগুন লাগা জামা-কাপড় ও কেরোসিন তেল পাওয়া যায়। এদিকে মিতালীর সাথে খারাপ ব্যবহার ও গর্ভকালীন অবস্থায় নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন তার শাশুড়ি লালিয়া বেগম। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ থেকে বছর দুয়েক আগে চিৎলা ইউনিয়নের রুইনতপুর গ্রামের কিতাব আলীর মেয়ে মিতালীর সাথে আমার ছেলি সুমনের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মাথায় একটা সন্তানও হয় তাদের। আমার ছেলি বিজিবি’তি চাকরী করে; দুই মাসের ছুটিতে বাড়িতে আসিচে। এখন সে চায় বেতনের সুম্পুন্নু টাকা-পয়সা তার মা-বাপের কাছে দিতি হবে, সে বাপের বাড়িতে বসে বসে খাবে। এ নিয়ে গতকাল (বুধবার) রাতে গোন্ডগোল হলে আজ সকালে (বৃহস্পতিবার) মিতালীর ভগ্নিপতি আর গ্রামের মেম্বারের ডেকে এনে সংসার আলাদা করে দিয়ে যায়। আমিও চাল, ডাল, থালা-বাসন, হাড়ি-কড়াই যা কিছু লাগে সবকিছু দিয়ে দিই। এরপর থেকে আমার সাথে, বাড়ির কারো সাথে কুনু কথা বার্তা নেই; সব বন্ধ। সক্কলে চলে গেলে আমি ঘরের পিড়িই শুয়ে আছি; এমন সময় সে ছেলে নিয়ে ঘরে ওঠে। এরপর ঘরের দরজা লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ও একবার খালি মা বলে ওঠে। মা বুলার সাথে সাথে আমি ঘরের মধ্যি ঢুকে দেখি ওর জামার এক কুনায় আগুন। আমি হাত দিয়ে নিভাতি গেলি আমার হাতেও আগুন লেগে যায়। এ সময় আমি আমার ছেলিকে ডাক দিই। তার চিৎকার আর আমার ডাক শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাড়াতাড়ি আগুন নিভিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’ এ ছাড়াও তিনি বলেন, বিয়ের কিছুদিন পর মিতালীর বাবার কাছ থেকে পরিবারের আর্থিক অনটন আর দেনা-পাওনা মেটানোর জন্য নগদ ৩ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। যা ফেরৎ দিতে মাঝে মাঝেই নানা কথা শোনাতো পুত্রবধূ মিতালী। এদিকে পুত্রবধূর গায়ে আগুন লাগার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাশুড়ি লালিয়া বেগমকে গতকালই বিকেলে থানা হেফাজতে নেয় আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। তবে উভয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোন অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ মিতালীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)