ছবির ক্যাপশন:
চিকিৎসকের ভুল অপারেশনে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। ক্লিনিকে একের পর এক রোগীর মৃত্যুর পরও সিভিল সার্জন অফিস থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এদিকে, ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় ঝিনাইদহে রিফাত (১৬) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকার ঢাকা ল্যাব নামের একটি ক্লিনিকে অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশনের পর তার মৃত্যু হয়। দরিবিন্নি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র রিফাত হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সড়াবাড়িয়া গ্রামের বাদশা মুন্সির ছেলে।
অভিযোগ উঠেছে, মৃত্যুর পর রিফাতের মরদেহ প্রতারণার মাধ্যমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ নিয়ে রিফাতের স্বজনরা ক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, অ্যাপেন্ডিক্সের ব্যাথা নিয়ে গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে স্কুলছাত্র রিফাত ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকার ঢাকা ল্যাব নামের একটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়। ভর্তির পর তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। চিকিৎসক রেজা সেকেন্দার রিফাতের অপারেশন করেন। অপারেশনের কিছুক্ষণ পর রোগীর খিচুনি শুরু হয় এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
তবে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে স্বজনদের শান্তনা দিতে মৃত রোগীকে ডা. রেজা সেকেন্দার প্রথমে কুষ্টিয়া ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে পরামর্শ দেন। রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান তিন ঘণ্টা আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
ক্লিনিকের একটি সূত্র জানায়, অজ্ঞানের চিকিৎসক ডা. অপূর্ব রিফাতকে অজ্ঞানের পর তার কার্ডিয়াক ফেল করে এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। রিফাতের বাবা বাদশা মুন্সি গতকাল শনিবার রাতে জানান, তার ছেলে অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন। তিনি এর বিচার চান। স্থানীয় ইউপি সদস্য আল আমিন জানান, রিফাত এবার এসএসসি পরীক্ষা দিত। কিন্তু নম্র-ভদ্র এই ছিলেটি ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার বলি হয়েছেন।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের ‘কসাই’ খ্যাত চিকিৎসক রেজা সেকেন্দারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ঢাকা ল্যাবের ম্যানেজার আসিফ মিয়া ও মালিক আশরাফুজ্জামান লিপনসহ সবাই এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, ওই ক্লিনিকটি বন্ধ করা হবে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সমঝোতার ভিত্তিতে ঘটনা মীমাংশা করে ফেলেন। তাই শক্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না। এর আগে একাধিক রোগীর মৃত্যুর পর ডা. রেজা সেকেন্দার নিজেই আর অপারেশন করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও তিনি একের পর এক অপারেশ করে যাচ্ছেন। এর আগে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কাছে ডা. রেজা সেকেন্দার আর অপারেশন করবেন না বলে মুচলেকা দিয়েছিলেন বলে সিভিল সার্জন জানান।
