ছবির ক্যাপশন:
দর্শনায় মাথাভাঙ্গা নদী দখল করে মাছ শিকার
ওয়াসিম রয়েল: সরকার যখন শত শত কোটি টাকা খরচ করে দেশের নদীগুলোর যৌবন ফেরাতে ব্যস্ত ঠিক সেই সময় চুয়াডাঙ্গা জেলার একমাত্র নদী মাথাভাঙ্গায় বাঁধ দিচ্ছে কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি। ১০ টাকার মাছ ধরতে হাজার হাজার টাকার বাঁশ কিনে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে এবং কোমর ঘিরে অবাধে মাছ শিকার করছে বেশ কিছু মুনাফালোভী মানুষ। যার ফলে ¯্রােত বাধাগ্রস্থ হয়ে পলি পড়ে ভরাট হচ্ছে নদীর তলদেশ। প্রতিবছরই শুষ্কমৌসুমে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নেই। বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ক্ষনিকের দৌড়ঝাঁপে মনে হয় এই যেন নদীটি প্রান ফিরে পেল।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা একমাত্র নদী মাথাভাঙ্গা। এক দিকে প্রবাহিত পানির অভাব অপরদিকে কিছু বিবেকহীন মানুষের নানাবিধ অত্যাচারে নদীটি আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এক শ্রেনির অসাধুচক্রের মানুষ নদীতে ১০টাকার পুটি মাছ ধরতে হাজার হাজার টাকার বাশঁ কিনে আড়াআড়িভাবে বাঁধ দিয়ে ও কোমর ঘিরে অবাধে মাছ শিকার করছে। এছাড়া পাঙ্গাস মাছের ছোট ছোট বাচ্চাকে দেশী টেংরা মাছ হিসাবে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এর ফলে পানির ¯্রােত বাধাগ্রস্থ হয়ে অনবরত পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীর তলদেশ। এছাড়া মানুষ নদীর বিভিন্ন স্থানে দুই ধারের মাটি কেটে সমান করে নানারকম ফসলের আবাদ করছে। ফলে নদীর দুই পাশের আলগা মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নদীর তলদেশ ভরাট হচ্ছে। এছাড়া দর্শনা সংলগ্ন রুদ্রনগর মাঠের ভিতরে অবস্থিত মুন ভাটা। এ ভাটা সংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীর প্রায় কয়েক একর পাড়ের মাটি কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করছে ইট ভাটা মালিক। এ অবস্থা চলতে থাকলে নদীটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। এক সময় পরিনত হবে মরা নদীতে তারপর দামুড়হুদা তথা চুয়াডাঙ্গার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দর্শনার পারকৃষ্ণপুর, মেমনগর, রামনগর, শ্যামপুর, জয়নগর গ্রামের বেশ কিছু হালদার ও মাছ শিকারীরা নদীতে আড়াআড়ি বাশেঁর বাধ দিয়ে ¯্রােতকে বাধাগ্রস্থ করে যথারীতি মাছ শিকার করছে। তারা নিজেরাও জানে এভাবে মাছ শিকার করা আইনত নিষিদ্ধ। তার পরও অদৃশ্য কোন শক্তিতে এভাবেই মাথাভাঙ্গা নদীতে অবাধে মাছ শিকার করছে এটা সচেতন মহলের বোধগম্য হয় না। সচেতনমহল মনে করেন, অতনতিবিলম্বে স্থায়ীভাবে কোমর ও বাঁধ অপসারন করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে আইনানুগ ব্যাবস্থা না নেয়া হলে হয়ত আর কয়েক দশকে দামুড়হুদার মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে মাথাভাঙ্গা নামের এ ঐতিহ্যবাহী নদীটি।
