ছবির ক্যাপশন:
দুই দফা দাবি আদায়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল সোমবার পৃথকভাবে তারা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন। গতকাল বেলা ১১টায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে দুই দফা দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। গ্রাহক সেবা চালু রেখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সামনে এই মানববন্ধন করা হয়। এসময় তারা বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক নিম্নমানের বৈদ্যুতিক মালামাল ক্রয় ও সরবরাহ, প্রয়োজনীয় মালামাল ও জনবলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গ্রাহক পর্যায়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে হয়রানি করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরেন। মানববন্ধনে দাবি করা দুই দফা হলো- গ্রাহক সেবার মানোন্নয়ন, উভয় কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে কর্মচারীদের সন্তুষ্টি, সখ্যতা ও অবার্থদিহিতা বৃদ্ধি এবং টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বিনির্মাণে সকল বৈষম্য দ্বৈতনীতির অবসানপূর্ণক আরইবি-পবিস একীভূত করে অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার ন্যায় রিফর্ম করতে হবে। এছাড়াও সদন চুক্তিভিত্তিক অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিত করার দাবিও জানানো হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, সারাদেশের ৮০ ভাগ অঞ্চলে প্রায় ১৪ কোটি মানুষকে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজে নিয়োজিত রয়েছে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। যার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার বিষয় যে, মাঠ পর্যায়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে যারা বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে থাকেন, তাদের ওপর ঔপনিবেশিক কায়দায় আরইবি কর্তৃক বিগত ৪৭ বছর যাবৎ বৈষম্য, শোষণ, নির্যাতন ও নিপীড়ন চলমান রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের শুরু থেকে নিম্নমানের মালামাল দিয়ে নন-স্ট্যান্ডার্ড লাইন ও সাবস্টেশন তথা বিতরণ ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া নানা বিষয়ে তুলে ধরা হয়। তারা বিদ্যুৎ দেশের জরুরি এবং অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিবেচনায় যৌক্তিক সময়ের মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিম্নোক্ত দাবি বাস্তবায়নপূর্বক দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সংজ্ঞারের মাধ্যমে আধুনিক, টেকসই ও স্মার্ট বিতরণ নিশ্চিতক্ষেত্রে ব্যবস্থার নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, দুই দফার একই দাবিতে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জেলা ও উপজেলা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেয়।
পল্লী বিদ্যুতের এজিএম সদস্য মো. ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ডিজিএম (কারিগরি) শ্যামল মল্লিক, পল্লী বিদ্যুৎ বামুদী জেনারেল অফিস জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সিদ্দিকুর রহমান, পল্লী বিদ্যুৎ লাইন টেকনিশিয়াল মো. রাহাজুল ইসলাম, লাইনম্যান (গ্রেট ২) মো. রাজিব আহমেদ, মিটার রিডার ম্যাসেঞ্জার মো. সাজন মোল্লা প্রমুখ।
এসময় বক্তারা, গ্রাহক সেবার মানোন্নয়ন, উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তুষ্টি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বিনির্মাণে সকল বৈষম্য অবসান করার দাবি জানান। সেই সাথে সকল চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিত করার দাবিও জানান।

অন্যদিক, ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গতকাল দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দুই দফা দাবি আদায়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেলা ও উপজেলা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে এক সমাবেশে বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আবু তৈয়েব মো. জহুরুল আলম, এজিএম হাবিবুর রহমান, মাহবুব আলম ও জুনিয়র প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম। বক্তারা, গ্রাহক সেবার মানোন্নয়ন, উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তুষ্টি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বিনির্মাণে সকল বৈষম্য অবসান করার দাবি জানান। সেই সাথে সকল চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিত করারও দাবি জানান। সমাবেশ শেষে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
