চুয়াডাঙ্গায় বার্ষিক পরীক্ষার সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করার দাবিতে কিছু শিক্ষার্থীর মানববন্ধন

আপলোড তারিখঃ 2024-09-30 ইং
চুয়াডাঙ্গায় বার্ষিক পরীক্ষার সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করার দাবিতে কিছু শিক্ষার্থীর মানববন্ধন ছবির ক্যাপশন:

বার্ষিক পরীক্ষার সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করার দাবিতে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শহরের বড় বাজার শহীদ হাসান চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন ও অবরোধ করে তারা। এসময় বড় বাজার এলাকার তিন দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও জীবননগরে শর্ট সিলেবাসের এক দফা দাবি আদায়ে মাবনবন্ধন করেছে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।

শহীদ হাসান চত্বরের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, দীর্ঘ সিলেবাসের কারণে তারা পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছে এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। এ কারণে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করার দাবিতে তারা মানববন্ধন করতে বাধ্য হয়েছে। এদিকে, মাবনবন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে। এতে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

দাবি আদায়ের এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের দুজন, কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন, আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের কয়েকজন এবং আদর্শ উচ্চবালক বিদ্যালয়ের কয়েকজনসহ বিভিন্ন স্কুলের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে দাবি করে, ‘এক দফা এক দাবি, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস চাই’ ইত্যাদি।

``

এদিকে, দীর্ঘ যানযট ও সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা ভেবে সেখানে উপস্থিত হন জেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা। তবে সেখানে আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথেও বাজে আচরণ করে। এসময় শিক্ষা অফিসারসহ শিক্ষকরা ছাত্রদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। শেষমেষ জেলা শিক্ষা অফিসার ধৈর্য্যধারণ করে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানান। পরে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন প্রতিনিধি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে।

জেলা শিক্ষা অফিসারের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি ব্যবস্থা করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শারমিন আক্তার স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন। স্মারকলিপি গ্রহণকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শারমিন আক্তারের কাছে শিক্ষার্থীরা দাবি তুলে ধরেন। তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর জন্য আশ্বাস দেন।

অপর দিকে, অবরোধের ফলে শহরের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে অনেকেই তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যার মুখে পড়েন। যাত্রীরা বলেন, শিক্ষার্থীরা স্কুল বা কলেজের মধ্যে তাদের আন্দোলন করতে পারতো। তাহলে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হতো না। সবাই বিভিন্ন কাজে ছুটছেন, আটকে থাকা আমাদের জন্য ভোগান্তির কারণ হচ্ছে।

এছাড়াও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনেকেই এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছেন। তারা পোস্টে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও দাবি আদায়ের জন্য সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার সমালোচনা করেন। একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক, কিন্তু সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি করা ঠিক হয়নি।’

``

সড়কে শিক্ষার্থীদের এই দাবি আদায়ের আন্দোলনে শহীদ হাসান চত্বরে যানজটে আটকে পড়েন বিভিন্ন যানের চালকসহ সাধারণ পথচারীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাদের আন্দোলন দেখে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন ব্যবহারকারীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আফিয়া ওয়াসিমা তুশি নামে একজন লিখেছেন, ‘ওদের লেখাপড়া আর করা লাগবে না।’ আইমান সাদী ইমন নামে একজন বিদ্রুপের সুরেই মন্তব্য করে লেখেন, ‘প্রতিদিন কাহিনী করছে। পুলিশ তাড়াচ্ছে না কেন?’ নেটিজেনদের মধ্যে তালাত জোয়ার্দার নামে একজন লিখেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডাকতে হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের শোকজ করতে হবে।’ মোস্তাফিজুর রহমান নামে একজন লেখেন, ১০ বছরের জন্য বাংলাদেশে লেখাপড়া নিষিদ্ধ করা হোক।

জেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান বলেন, পরিস্থিতি খারাপ দেখেই আমরা বড় বাজারে যায়। তবে অনেক কষ্টে শিক্ষার্থীদের বোঝাতে চেষ্টা করেছি। পরে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এর সাথে দেখা করে বিস্তারিত বলেছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নে আমাদের কিছু করার নেই। এটি ঢাকায় শিক্ষা উপদেষ্টার সিদ্ধান্তের বিষয়।

এদিকে, ‘শর্ট সিলেবাস চাই’ স্লোগানে জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহরের বাসস্ট্যান্ড চত্বরে মানববন্ধন করেছে। এতে অংশগ্রহণকারী অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বার্ষিক পরীক্ষায় শর্ট সিলেবাসের এক দফা দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে উপজেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তমঞ্চে একত্রিত হয়। শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোছা. শোভা খাতুন বলেন, সারা দেশের ন্যায় আমরাও শর্ট সিলেবাস চাই। পরীক্ষার সময় কমে এসেছে, অথচ আমাদের ওপর লম্বা সিলেবাস চেপে আছে। মানববন্ধনের মাধ্যমে আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন করছি, আমাদের অষ্টম ও নবম শ্রেণির সিলেবাস শর্ট করার জন্য।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে নাইম বলেন, অষ্টম ও নবম শ্রেণির শর্ট সিলেবাস জন্য আমরা মানববন্ধন করছি। অতি দ্রুত আমাদের বার্ষিক পরীক্ষার শর্ট সিলেবাস প্রকাশ না করা হয়, তাহলে আমরা রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামবো। শিক্ষার্থীদের পক্ষে মাহিম বলেন, আমরা আমাদের এক দফা এক দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। এতে অনেকে খারাপ বলবে, অনেকে ভালো বলবে। কিন্তু আমরা জানি এই শর্ট সিলেবাস আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)