ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুরে বিড়াল ও কুকুরের উপদ্রবে দিশেহারা মানুষ। প্রতিদিন প্রায় ১০০ মানুষ বিড়াল ও কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এ জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ১২৩ নম্বর রুমে জলাতঙ্ক রোগের টিকা গ্রহণে ভিড় বেড়েই চলেছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে দেখা যায়, জলাতঙ্ক টিকা নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কয়েকজন স্টাফ নার্সও ব্যস্ত রয়েছেন জলাতঙ্ক রোগীদের টিকা দেওয়ার কাজে।
তারা জানান, গত ৩ দিনে প্রায় ৩০০ কাছাকাছি মানুষ জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন নিয়েছেন। হাসপাতালে আসা রোগীদের অধিকাংশই শিশু এবং বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ের পর টিকা গ্রহণে এসেছেন। তবে পুরুষ ও মহিলার সংখ্যাও কম নয়। তারা আরও বলেন, বিড়াল কিংবা কুকুরে কামড়ালে জলাতঙ্ক টিকা গ্রহণের ৩ মাসের মধ্যে আর টিকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ৩ মাস পর কামড়ালে আবারও টিকা গ্রহণ করতে হবে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডা. আশিক জানান, মাঝে মধ্যেই কুকুর কিংবা বিড়ালে কামড়ানো রোগী আসলে টিটেনাস ইঞ্জেকশন দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এখানে জলাতঙ্ক রোগের টিকার ব্যবস্থা নেই।
মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে টিকা গ্রহণ করতে আসা কয়েকজন জানান, তাদের বাড়ি গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে বিনামূল্যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা সরবরাহ রয়েছে বলেই এখানে এসেছে। কারণ বাইরে টিকা কেনা ব্যয়বহুল। তবে প্রথম ডোজ সম্পন্ন হলেও আরও দুই দিন আসতে হবে টিকা নিতে ভেবে শঙ্কিত তারা।
কারণ হিসেবে জানান, দেশের চলমান পরিস্থিতি, হাসপাতাল এরিয়ায় যত্রতত্র মোটরসাইকেল রাখার অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনা এবং মোটরসাইকেল রাখায় অবৈধভাবে অর্থ আদায়। যদি অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে এ টিকার ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে রোগীদের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমে যেতো বলে জানান তারা। তাছাড়া গ্রামের বসতবাড়িতে পালিত বিড়াল ও কুকুরগুলোকেও টিকা প্রদানের মাধ্যমেও জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকি থেকে বিশেষ করে শিশুদের বাঁচানো সম্ভব বলেও তারা মনে করেন।
