নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে হাবিবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দু’শিক্ষকের বিভিন্ন মহলে দৌঁড়ঝাপ

আপলোড তারিখঃ 2017-09-20 ইং
নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে হাবিবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দু’শিক্ষকের বিভিন্ন মহলে দৌঁড়ঝাপ ছবির ক্যাপশন:
প্রধান শিক্ষক তাপস ও সহকারী শিক্ষিকা শিউলী মেডিকেল ছুটিতে জীবননগর অফিস: বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, একবার ধরা পড়িলে কে বাচাবে প্রান, তাপস কুমার দাশ পেশা মহান শিক্ষকতা। যিনি শিক্ষার ব্রত নিয়ে এ পেশায় নাম লিখিয়েছেন। তবে তার নৈতিক দিকই এখন টক অব দ্যা উপজেলায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষকতার আড়ালে তিনি নিজেকে রাসপুটিন হিসাবে প্রকাশ করে আলোচনার শীর্ষে এসেছেন। তার বিরুদ্ধে বহুবিদ অভিযোগ। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার পাঠদানে অমনযোগীসহ নানাবিধ অভিযোগ থাকলেও প্রেমজ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার বিশেষ মোহ এসব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে। তার এসব কাহিনীর কিছু উল্লেখ্যযোগ্য অংশ পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হল। জীবননগর পৌর সভার ৪নং ওর্য়াডের ক্ষুদ্রব্যবসায়ী বিশ্বনাথ দাসের ছেলে তাপস কুমার দাশ। গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করার পর ১০/১০/২০০০ সালে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। এ সময় তিনি রায়পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। এখানে শিক্ষকতার সুযোগে তিনি এক সহকারী শিক্ষিকার সাথে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ভিন্ন ধর্মীর এই শিক্ষিকার পরিবার ও স্থানীয় জনগনের রোষানলে পড়েন এই শিক্ষক। শেষে এক প্রকার অপমানিত হয়ে তাকে বিদায় নিতে হয়। তাকে বদলি করা হয় ৬ মাইল এগিয়ে মহাসড়কের ধারে বকুন্ডিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখানে এসে কয়েকটা দিন বিশ্রামে থাকেন। তারপর আবার শুরু হয় তার একই কাজ। এখানেও সম্পর্ক গড়ে তোলেন আরেক মহিলা সহকর্মির সাথে। স্কুলের ক্লাস উপেক্ষা করে মেতে ওঠেন অনৈতিক কাজে। তার এ অনৈতিক কর্মকান্ডে ফুঁসে ওঠে এলাকাবাসী। তারা দলবদ্ধ ভাবে তার অপসারনের দাবিতে সোচ্চার হন। কিন্তু ওই যে, সরকারী চাকরী বললেই তো আর একজন সরকারি নফর কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে জনগনের শক্তি বলে কথা। এক সময় হার মানে প্রশাসন। তবে এ ক্ষেত্রেও তাকে পুরস্কৃত করা হয়। দুর্গম এলাকা থেকে বদলি করে আরো ভাল স্কুলের দায়িত্ব দেয়া হয়। এবারে তিনি দায়িত্ব পান এলাকার সুনাম খ্যাত হাসাদহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখানে যোগদানের পর তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। প্রশাসনের পরিচালনা পর্ষদ অভিভাবক সবাইকে তুচ্ছ করে প্রেমের তাজ মহল গড়তে আরেক সহকারী শিক্ষিকার প্রেমে দেওয়ানা হন। আদান-প্রদান লেনা-দেনা সমানে চলতে থাকে। বাঙালী কবির সেই বিখ্যাত উক্তি ‘প্রেমের ফাদ পাতা ভুবনে কে কোথায় ধরা পড়ে কে জানে’ তাই তিনি প্রেমিক শাহজাহান হয়ে আরেক মমতাজ কে জোগাড় করে নেন। এ মমতাজ তার সহকর্মি বিধায় বেপরোয়া গতিতে চলতে থাকে ভালোবাসার খেয়া। কথায় আছে চোরের সাত দিন আর সাধুর এক দিন। তাই রাত অপেক্ষা বিধাতা হেলেছিলেন। ধরা পড়েন প্রেমিক তাপস কুমার দাশ। স্কুলে জুতার মালা পরিয়ে অভিভাবকেরা যখন বিদায় দিতে উদ্যত তখনই সরকারি গায়েবি আওয়াজ। পরিবেশ শান্ত রাখতে সরকার তাকে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করে বেনীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে যাচায় হবে। কিন্তু বিধি বাম ছাত্রীর সাথে শিক্ষকের প্রেম বাজার মাৎ করা প্রেম কাহিনী হিসাবে লোক মুলে ছড়িয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক গ্রামবাসী মারমুখী। কি যেন কি হয় ভেবে দু/একদিন বিরতি। শেষে সবকুল ম্যানেজ করে আবার প্রশাসনের কৃপা পেলেন রামজুটির শিক্ষক তাপস কুমার দাশ। তিরস্কারের নামে পুরস্কার পেলেন; বেশি না ভিজিয়ে ২০০৭ সালে হাবিবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হলেন তিনি। এখানেও সহকারি শিক্ষকা শিউলিকে নিয়ে বেশ রসালো গল্প। শ্রেনী কক্ষে না যেয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা নিরিবিলিতে বসে গল্পে আর আড্ডায় স্কুলের বাতাসে আবির মাখিয়ে দিল তারা। যাওয়া আসা নিয়ে কৌতুক। সাবধান করা হল দু’জনকে সহকর্মিদের পক্ষ থেকে হুশিয়ারও করা হল। কিন্তু দুজনার শেষে একদিন দিনের আলোয় সবই পরিস্কার হয়ে গেল। ধরা পড়ে গ্রামবাসী শিক্ষক তাপস কুমার দাশের গলায় ফুলের মালা ভুলে জুতার মালা দিল। প্রশাসনের সামনে তার অপকর্মের ফিরিস্থি তুলে ধরা হল। ন্যায় বিচার চাইলেন গ্রামবাসী, কিন্তু প্রশাসন নির্বিকার। কেবল ক্ষোভ নিরসনে বলা হল। এ বিষয় নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত করে দেখে যদি সে দোষী হয় তা হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা মানে অন্যত্র বদলি। এবারে হয় আরো বড় পুরস্কার দেয়া হবে। এমন একজন চ্যাম্পিয়ান প্রেমিক প্রবণ কে তো আর নিধামনে পাঠানো যায় না। এই সন্দেহ আরো দৃঢ় হল উপজেলা শিক্ষা অফিসারের আচরনে। তবে এলাকাবাসীর কাছে শিক্ষা অফিসারের ভূমিকা বড়ই রহস্যজনক। এদিকে দীর্ঘ ৫দিন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকা শিউলী স্কুলে অনুপস্থিত। একটি গোপন সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দাশ নিজের অপকর্ম ঢাকার জন্য জীবননগরের এক প্রভাবশালী নেতাকে সাথে নিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিজের অপকর্মের তদন্তর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। এ ব্যাপারে জীবননগর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুর ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, হাবিবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দাশ ও সহকারী শিক্ষিকা শিউলী খাতুনের বিষয়টি আমরা তদন্ত করে আমাদের ঊর্ধ্বতন কমকর্তার নিকট পাঠিয়েছি। তা ছাড়া ওই দুই জন শিক্ষককে বর্তমানে মেডিকেল ছুটি দেওয়া হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)