মেহেরপুরে কবি নজরুল শিক্ষা মঞ্জিলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপলোড তারিখঃ 2024-09-26 ইং
মেহেরপুরে কবি নজরুল শিক্ষা মঞ্জিলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:

মেহেরপুর কবি নজরুল শিক্ষা মঞ্জিল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানজিদা ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন না দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীরা ফুঁসে উঠেছেন।

অভিযোগকারীরা জানান, ২০১৮ সালে প্রধান শিক্ষক সানজিদা ইসলাম জনপ্রশাসন মন্ত্রীর সহায়তায় ২০ লাখ টাকা উৎকোচ দিয়ে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর তিনি চারজন কর্মচারীকে বিনা কারণে বাদ দেন এবং পরে প্রভাব খাটিয়ে তাদের স্থলে ৬-৭ লাখ টাকা করে নিয়ে নিয়োগ দেন। এছাড়া তিনি একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছেন। বিদ্যালয়ের ১১৭ বিঘা আবাদি জমি, পুকুর, লিচু বাগান এবং শিক্ষার্থীদের বেতন থেকে প্রতি বছর প্রায় ২২ লাখ টাকা আয় হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের ১২ মাসের বেতন এবং ৪টি ঈদ বোনাস বকেয়া রেখেছেন। এতে শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দুটি এসি, নিজের জন্য দামি চেয়ারসহ বিভিন্ন উপঢৌকন দিতে বাধ্য করা হয়েছে। দরিদ্র শিক্ষার্থীরা বিনা বেতন কিংবা অর্ধ বেতনের সুবিধা পাচ্ছে না। কম্পিউটার ল্যাব এবং সাইন্স ল্যাব শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে না দিয়ে বাইরের প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভ মোহাম্মদ জানান, ‘আমাদের সাইন্স ল্যাবের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, আমরা কোনো দিন ওই ল্যাবে ক্লাস করার সুযোগ পাইনি।’ অপর একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের নতুন ভবন ফেলে রেখে পুরনো জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস করানো হচ্ছে, যেখানে গরমে ও মশার কামড়ে কষ্ট করতে হচ্ছে।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিনা পারভিন জানান, ‘প্রধান শিক্ষক জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে চারবার বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন, এতে বিদ্যালয়ের ৬ লাখ টাকা ঘাটতি হয়। এরপর থেকে আমাদের ১২ মাসের বেতন ও ৪টি ঈদ বোনাস দেওয়া হয়নি।’

চাকরিচ্যুত অফিস সহায়ক তৌফিকুজ্জামান বলেন, ‘আমাকে চুরির মিথ্যা অভিযোগে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়। যশোর বোর্ড আমার পক্ষে রায় দিলেও আমাকে যোগদান করতে না দিয়ে ৬ লাখ টাকা নিয়ে অন্যজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সানজিদা ইসলাম বলেন, ‘করোনা সময়ে স্কুলের আয় না হওয়ায় শিক্ষকদের বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। নিয়োগ বিষয়ে মন্ত্রী যা বলেছিলেন, আমি তাই করেছি। মন্ত্রীর বাইরে আমার কিছু করার ক্ষমতা ছিল না।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিন জানান, ‘অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হবে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)