ছবির ক্যাপশন:
ধুন্দু মামার ফাইল ছবি ও দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া গাড়ির ছবি আছে
উথলী থেকে সস্ত্রীক জীবননগরের বাড়িতে ফেরার পথে বিপত্তি : রেল লাইনের উপরে উঠতেই গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক: উথলী থেকে সস্ত্রীক জীবননগরের বাড়িতে ফেরার পথে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী সাইদুর রহমান ধুন্দু তাঁর স্ত্রী গুরুতর জখম হয়েছে। গতকাল শুক্রবার আনুমানিক রাত সাড়ে দশটার দিকে উথলী রেল গেটে এ দূর্ঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয় গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করলে রাতেই তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। এবং তাঁর স্ত্রীকে যশোর আড়াইশ বেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উথলী বিশ্বাসপাড়াস্থ শ্বশুরবাড়ি থেকে রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে নীল রঙের (ঢাকা মেট্রো- ঘ ১৩-৪১২৫) নিজস্ব প্রাইভেটকারযোগে সহধর্মীনি পারভীন সুলতানা বন্যা (৫০) কে নিয়ে জীবননগরের বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যি উথলী রেলগেট পারাপারের সময় রেল লাইনের উপরে উঠতেই গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় গাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে ততক্ষণে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৫, আপ) ট্রেন তাঁর গাড়িটিকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ট্রেনের ধাক্কায় গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে রাস্তার পাশে উল্টে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ছুটে এসে দু’জনকেই উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় গুরুতর জখম অবস্থায় হাজী সাইদুর রহমান ধুন্দুকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা মশিউর রহমান জানান, তাঁর ব্রেন হ্যামারিং হয়েছে। একই সাথে তিনি মাথা, বাম হাত এবং বুকে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাতেই ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
এদিকে তাঁর সহধর্মীনি পারভীন সুলতানা বন্যাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসায় তিনি মোটামুটি সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি মাজায় (মেরুদন্ডে) আঘাত পেয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হাজী সাইদুর রহমান ধুন্দু উথলী বিশ্বাসপাড়ার মৃত খলিলুর রহমান বিশ্বাসের বড় ছেলে এবং একই পাড়ার হাজী মো. আতিয়ার রহমান বিশ্বাস (লিলু মিয়া)’র জামাই। গতকাল শুক্রবার সকালে সহধর্মীনি পারভীন সুলতানা বন্যাকে নিতে শ্বশুরবাড়ি আসেন তিনি। দুপুরে উথলী বিশ্বাসপাড়া জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় শেষে বিভিন্ন সমস্যা ও সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন গ্রামের মানুষের সাথে। সারাদিন গ্রামে থাকার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে খাওয়া দাওয়া শেষে সহধর্মীনিকে সাথে নিয়ে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে জীবননগরের বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টা ৪৪ মিনিটে দিকে উথলী বাজার-বাসস্টান্ড সড়কের রেলগেটে এসে রেল লাইন পারাপারের সময় গাড়ির প্রথম চাকা লাইনের উপর উঠতেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। দূর্ঘটনার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে গাড়ির মধ্যে থেকে বেরুতে চাইলেও গাড়ির দরজা স্বয়ংক্রিয় ভাবে লক হয়ে যায়। এরমধ্যে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঘন্টায় ৯০-১০০ কি:মি: গতিবেগ সম্পন্ন সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন তাদের গাড়িটিকে ধাক্কা দিয়ে রেল লাইন থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে নিয়ে গিয়ে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে রেখে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাজী সাইদুর রহমান ধুন্দুকে উদ্ধার করা হয় এবং আহত অবস্থায় তাঁর সহধর্মীনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাজী সাইদুর রহমান ধুন্দুকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়ন পরিষদের পর পর তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা হাজী সাইদুর রহমান ধুন্দুর দূর্ঘটনার খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, মজিবুল হক মজু। এছাড়া হাজী সাইদুর রহমান ধুন্দু’র মর্মান্তিক দূর্ঘটনার খবর শুনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শরীফুজ্জামান শরীফ তাঁর সুস্থতা কামনাসহ চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এদিকে, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মির্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু, সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম মিলন, জেলা ছাত্রদল নেতা খন্দকার আরিফ, আমানউল্লাহ আমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মিরা হাজী সাইদুর রহমান ধুন্দুকে এক নজর দেখার জন্য হাসপাতালে ছুটে আসেন।
