ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভার আনন্দধাম দক্ষিণপাড়ার কয়েকটি পরিবারের ১৬জন আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। গত কয়েক বছর ধরে তারা আর্সেনিকে আক্রান্ত বলে জানায় তারা। বিভিন্ন চিকিৎসার পরেও তাদের অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা পৌর শহরের আনন্দধাম দক্ষিণপাড়ায় বসবাসকারীরা বেশিরভাগই ছিন্নমূল পরিবারে। তারা গত ১ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে। বর্তমানে এসব এলাকায় নিজস্ব টিউবওয়েল থাকলেও আর্সেনিকের বিষয়ে ছিলো অনভিজ্ঞ। কয়েক বছর পার হলেও এই এলাকায় কোন সংস্থা এই আর্সেনিকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেনতা বৃদ্ধির জন্য কোন প্রকার টিউবওয়েলে লাল কিংবা সবুজ রঙ্গের চিহ্ন দেয়নি এবং এসব এলাকা গুলোতে কখনো ব্যাবহার যোগ্য খাবার পানি পরিক্ষাও হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করায় দেখা দেয় আর্সেনিক নামক ভয়ানক রোগ।
সম্প্রতি, আলমডাঙ্গায় ব্র্যাকের পরিচালনায় আলমডাঙ্গা পৌর এলাকায় ওয়াচ কর্মসূচি চলছে। ওই কর্মসূচি পালনের জন্য একটি টিম গত ২০ আগস্ট আনন্দধাম দক্ষিণ পাড়ায় যায়। সে সময় তারা মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে কামালের (৪০) হাতে পুরনো ঘা-এর ক্ষত দেখতে পায়। তিনি রোগ সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেননি। এই ভয়ানক রোগের কারণে কামাল স্বাভাবিক কোন প্রকার কাজ করতে পারছে না।
বৃহস্পতিবার আনন্দধামের দক্ষিণপাড়া এলাকা পরিদর্শন করা হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। সেখানকার ৬-৭ পরিবারের ১৬ জন আর্সেনিক আক্রান্তরোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের বেশিরভাগ নারী। হাত-পা-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোঁড়া বের হয়েছে। যা রীতিমতো ঘাÑএ পরিণত হয়েছে। আর্সেনিক আক্রান্ত অন্যরা হলেন– সুজন আলীর স্ত্রী লিপি খাতুন, লিপি খাতুনের মা ফাতেমা খাতুন, লিপির পিতা গোলাম রহমান, আরিফের স্ত্রী ময়না খাতুন, শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফেরদৌসি খাতুন, মৃত দবির উদ্দীনের ছেলে শহিদুল, কামালের স্ত্রী রাজেদা খাতুন, কামালের ৩ ছেলে সজিব, নাজমুল ও আছিয়া বেগম, সজিবের স্ত্রী চুমকি, শরিফুল ইসলামের স্ত্রী চম্পা খাতুন, মৃত মকছেদ আলীর ছেলে মজিবর রহমান (৫০), মজিবর রহমানের স্ত্রী আলেয়া খাতুন ও স্বামী পরিত্যাক্ত কল্পনা খাতুন। একটা ছোট্টপাড়ায় ১৬ জন আর্সেনিক রোগী থাকা আন্দধাম এলাকার জনসাধারণ আর্সেনিক আতঙ্কে দিন পার করছে।।
আর্সেনিক আক্রান্তরা জানান, তাদের শরীর ও হাত-পা চুলকায়। জ্বালাপোড়া করে। সারা শরীরে ফঁসকুরি উঠেছে। আর্সেনিক বিষ দুর্বিসহ করে তুলেছে এদের জীবন। এ পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান তাদের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেনি বলেও তারা জানান।
আলমডাঙ্গা উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নজিবর হক জানান, আর্সেনিক সমস্যা সমাধানে এখন কোনো প্রকল্প হাতে নেই। ২০০৩ সালে আর্সেনিকের প্রকল্প ছিলো। বর্তমানে সেটি আর নেই। যার ফলশ্রুতিতে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত নলকুপগুলোর আর্সেনিক সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, আলমডাঙ্গা আর্সেনিক বিষয়ে নতুন করে গবেষণা ও জরিপের একান্তই প্রয়োজন। এ জন্য জরুরী ভিত্তিতে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
