ছবির ক্যাপশন:
চায়ের দোকান থেকে যুবককে তুলে নেয়ার ঘটনা জানতে গিয়ে জীবননগর গয়েশপুর বিজিবি’র কোয়াটার মাস্টার বিরুদ্ধে
নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যদের বিরুদ্ধে সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। গয়েশপুর গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা যুবককে আটকের কারণ জানতে গিয়ে এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন ওই চেয়ারম্যান-মেম্বার। অন্যদিকে আটককৃত যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার যুবককে জীবননগর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের ময়েন উদ্দিন চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আমিন উদ্দিন(৩২) গতকাল বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে গ্রামের জনৈক মসলেম উদ্দিনের চায়ের দোকানে বসেছিলেন। ওই সময় গয়েশপুর বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার কোয়ার্টার মাস্টার আমিনুল ইসলাম তাকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দিন ময়েন ও মেম্বার ইসরাফিল হোসেন পুকু আটকের কারণ জানতে ক্যাম্পে যান। কিন্তু কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার আমিনুল ইসলাম তাদের সাথে চরম খারাপ আচরণ করতে থাকে এবং ধাক্কা মারতে মারতে ক্যাম্পের ভিতরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ৫৮ ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা সেখানে হাজির হয়ে চেয়ারম্যান ময়েন ও মেম্বার পুকুকে ছেড়ে দিলেও আটক আমিন উদ্দিনকে নিয়ে যাওয়া হয় খালিশপুর বিজিবি ব্যাটালিয়ন কোম্পানি সদরে।
গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা আমিন উদ্দিন বলেন, ‘খালিশপুর বিজিবির সেক্টর কমান্ডারের কার্যালয়ে নিয়ে আমাকে চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। আর আমার দিয়ে স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছে যে, আমি মাদকের ব্যবসা করি। পরে আমার ভাই ময়েন চেয়ারম্যান ও পুকু মেম্বারের হেফাজতে ছেড়ে দেয়।’
গয়েশপুর বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দীন ময়েন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে আমার ছোট ভাই আমিন গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিল। এ সময় গয়েশপুর বিজিবি ক্যাম্পের কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার আমিনুল ইসলাম বিনাকারণে তাকে মারতে মারতে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। আমিনের আটকের প্রতিবাদে গ্রামবাসী ক্যাম্পের সামনে অবস্থান করছে এমন সংবাদ পেয়ে আমি ও আমার ইউপি সদস্য ক্যাম্পে গেলে হাবিলদার আমিনুল আমাদের দু’জনের সাথে খারাপ আচরণ করে এবং ক্যাম্পের মধ্যে আটকে রাখে।’
তিনি আরো জানান, ‘গয়েশপুর বিজিবি ক্যাম্পের কোয়াটার মাস্টার আমিনুলের লাইনম্যান ছিল গয়েশপুর গ্রামের প্রবাশী ফেরত ইনতা। সম্প্রতি একটি মারামারি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী হওয়ায় জীবননগর থানা পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করে। ইনতা আটকের বিষয়ে আমার ছোট ভাই আমিনের হাত রয়েছে ধারণা করে হাবিলদার আমিনুল তাকে আটক করে।
এদিকে আমিন উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ‘আমিনের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ বা মামলা নেই। তারপরও গয়েশপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।’
ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যকে লাঞ্চিতের ঘটনা অস্বীকার করে খালিশপুর ৫৮ বিজিবি’র পরিচালক (সিও) লে. কর্ণেল জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ওই আসামীকে ধরার পর থেকে আমি গয়েশপুর ক্যাম্পেই ছিলাম। সেখানে এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি; ঘটলে আমি জানতাম। রাত ১০টার দিকে সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য ৫৮ বিজিবি’র কোম্পানি সদরে এসেছিল। যদি তাদেরকে লাঞ্চিতই করা হতো তবে তারা কোম্পানি সদরে আসতো না। বিজিবি’র বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মোটেও সত্য নয়। সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা ও ভূয়া তথ্য দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গয়েশপুর বিজিবি’র হাতে আটক আমিন উদ্দীনকে খালিশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের কোম্পানি সদরে নেওয়া হয়। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমিনের বড় ভাই সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দীন মঈন ও ইউপি সদস্যসহ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে সেখান থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
