ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদা পাইলট গার্লস্ স্কুল এ্যান্ড কলেজের প্রভাষক সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানীর অভিযোগ
দামুড়হুদা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা পাইলট গার্লস্ স্কুল এ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর দায়ে একই কলেজের শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটস্ এ্যাপে বিভিন্ন ছবি পাঠানোয় শিক্ষককে অভিযুক্ত করে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হাসান অভিযুক্ত সাজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন (৩৫) দামুড়হুদা পাইলট গার্লস্ স্কুল এ্যন্ড কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষক এবং উপজেলার মদনা গ্রামের মৃত ওহিদুল ইসলামের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা শহরস্থ দামুড়হুদা পাইলট গার্লস্ স্কুল এ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী একই কলেজের শিক্ষক সাজিদ হোসেনের কাছে প্রাইভেট পড়তেন। এরই সূত্র ধরে তাদের মাঝে গড়ে ওঠে সখ্যতা। শুরু হয় সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম হোয়াটস্ এ্যাপে কথাবার্তা এবং বিভিন্ন ছবি পাঠানো। সম্প্রতি ওই ছাত্রীর পিতা শিক্ষক সাজিদ হাসানকে অভিযুক্ত করে বলেন, তার মেয়েকে ওই শিক্ষক অশালিন কথাবার্তা বলছে। এসব কথা শোনার পর, শিক্ষক সাজিদ ওই ছাত্রীর পিতার বন্ধুদের কাছে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের কাছে গিয়ে বলেন, ‘আমি ওই মেয়েকে কোন অশালিন কথা বলিনি, বরং সেই আমাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে। আমাকে যখন তখন ফোন দেয়, নেটে ছবি পাঠায়। বিশ্বাস না হলে রেকর্ড করা কথা ও তার পাঠানো এসব ছবিগুলো দেখেন।’ এই বলে শিক্ষক সাজিদ রেকর্ডকৃত কথাবার্তা ও ছাত্রীর পাঠানো ছবিগুলো তাদের দেখান।
এ ঘটনায় ছাত্রীর পিতা দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষক সাজিদ হাসান তার মেয়ের অশালিন অঙ্গ-ভঙ্গিমার বিভিন্ন ছবি তুলে রেখে বিভিন্ন মানুষকে দেখাচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে গতকাল সোমবার সকালে দামুড়হুদা শহর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হাসান দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ছাত্রী ও অভিযুক্ত শিক্ষকসহ সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
এসময় শিক্ষক তার অপরাধ স্বীকার করলে ভ্রাম্যমান আদালত শিক্ষক সাজ্জিদ হোসেনকে দন্ডবিধির ৫০৯ ধারায় দেষী সাব্যস্ত করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন। এসময় আদালতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষনার পর শিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে জরিমানার টাকা পরিশোধ করা হয়। আদালতের সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসের সিএ হামিদুল ইসলাম। উল্লেখ্য, বছর চারেক আগে এই ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে তাকে উত্ত্যক্ত্য করার অভিযোগে এক যুবককে কারাদন্ড দিয়েছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের তৎকালীন নির্বাহী অফিসার এএমএম এহতেশামুল।
