ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা বিআরটিএ অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দালাল গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার বিআরটিএ অফিসে অভিযান চালিয়ে মো. মোস্তফা নামের এক দালালের জেল-জরিমানার আদেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক। গতকাল সোমবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুচিত্র রঞ্জণ দাস ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাপিয়া আক্তার এ আদালত পরিচালনা করেন। এসময় নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিআরটিএ অফিসে গ্রাহকদের কাজ করে দেয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে মোস্তফাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং সাত দিনের কারাদেন্ডর আদেশ দেন আদালত। এসময় মোস্তফা জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন। পরে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গার বিআরটিএ অফিসে দালালের দৌরাত্বের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দালালদের দৌরাত্ব বন্ধ করার জন্য সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউদ্দীন আহমেদ প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেন। তিনি দালালমুক্ত বিআরটিএ অফিস গড়ার লক্ষ্যে ওই অফিসের সকল কাজ নির্ধারিত বুথের মাধ্যমে করার নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ মতো বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ বিনা প্রয়োজনে সাধারণের অফিসে প্রবেশ সীমিত করেন। এতেও দমে না দালালচক্র। তারা প্রায়ই বিআরটিএ অফিসের বন্ধ দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে কাজের ব্যাঘাত ঘটান। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার হঠাৎ করেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুচিত্র রঞ্জণ দাস ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাপিয়া আক্তার বিআরটিএ অফিসে অভিযান চালান। এসময় তিনজন গ্রাহকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজসহ দালাল মোস্তফাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
এদিকে, দালাল মোস্তফার গ্রেফতার ও জেল-জরিমানার খবরে সুধীমহল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে সাধুবাদ জানিয়েছে। এসময় অনেকেই বলতে থাকেন, শুধু মোস্তফাই নয়। শহরের ২/৩ চিহ্নিত নেশাগ্রস্থ দালাল বিআরটিএ অফিসে রামরাজত্ব কায়েম করে বসেছে। তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা দরকার। অন্যদিকে একটি সূত্র জানায়, প্রশাসনের আন্তরিক উদ্যোগে বহিরাগত দালালরা কিছুটা দূরত্ব রেখে গোপনে কাজ করলেও বিআরটিএ অফিসের ভিতরেই বহাল তবিয়তে রয়েছে আরেক দালাল সজীব। সে ওই অফিসের কোন কর্মচারী না হয়েও কম্পিউটার বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্বে রয়েছে। সূত্রটি জানায় তিনি বিআরটিএ মেহেরপুর অফিসের সিল ম্যাকানিক্স মিঠুর আত্মীয় হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর অফিসে বহাল তবিয়তে কাজ করছেন। কম্পিউটার বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব কীভাবে বহিরাগত লোক দিয়ে করা হয় সে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।
বিআরটিএ অফিসে কাজ করতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, চুয়াডাঙ্গা বিআরটিএ’র বর্তমান সহকারি পরিচালক আতিয়ার রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর অফিসটি এযাবৎকালের মধ্যে গতিশীল অফিসে পরিণত হয়। তিনি দিনরাত কাজ করে আগের জমে থাকা কাজের অনেকটাই কমিয়ে এনেছেন। কিন্তু দালালদের দৌরাত্বে তার সুফল বাঁধাগ্রস্ত হতে পারে বলেন অনেকে।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক বিআরটিএ অফিসে কোনো বহিরাগত লোক কাজ করতে পারবে না।
অন্যদিকে, বিআরটিএ অফিস থেকে দালাল আটকের খবরে নানা মুখরোচক আলোচনা শোনা যায় এ চত্বরে। অনেকেই অভিযোগে করেন, চুয়াডাঙ্গা বিআরটিএ অফিসে দালালদের দৌরাত্বের কারণে এই সার্কেল অফিসটি পাশের জেলায় স্থানান্তরের গুঞ্জণ শোনা যাচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এমনটা হলে আবারও জেলার সাধারণ গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হবেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।
