মেহেরপুরে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে বালির পরিবর্তে মাটির ব্যবহার

আপলোড তারিখঃ 2017-09-10 ইং
মেহেরপুরে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে বালির পরিবর্তে মাটির ব্যবহার ছবির ক্যাপশন:
সাড়ে ২২ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণসহ ৭৩ কেটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন কাজে অনিয়ম বিশেষ প্রতিবেদক: মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজে বালির পরিবর্তে মাটি মিশ্রিত নি¤œ মানের ইটের খোঁয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাদের অনিয়মের কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকা পানিতে যাওয়ার উপক্রম। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাফাই গাইছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে উন্নয়ন মুলক কাজে অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। জনসাধারণ ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা বলছেন এ ভাবে সড়ক নির্মাণ করলে অল্প দিনেই নষ্ট হবে। বর্তমান সরকারের নেওয়া উন্নয়ন মুলক প্রকল্প কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে অন্ধকারে চলে যাবে। রাস্তার একপাশে মাটি কাটা ও অন্য পাশে মাটি মিশ্রিত নি¤œ মানের ইটের খোঁয়া দিয়ে ভরাট করে রোলিং এর কাজ চলছে। মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের মেহেরপুর জেলার সীমানা পর্যন্ত সাড়ে ২২ কি: মি: সড়ক প্রশস্তকরণসহ বিভিন্ন কাজের ব্যায় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৭৩ কেটি টাকা। কাজের ধরণ, নির্মাণ উপকরণ ও টাকার পরিমাণ সম্পর্কিত কোন সাইন বোর্ড লাগানো হয়নি। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণসহ অন্য কাজ দ্রুত করছেন তিনটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। রাস্তার এক পাশে দুটি মাটিকাটা মেশিন দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলছে। আর অন্য পাশে ৩৫-৪০ জন শ্রমিক মাটি মিশ্রিত খোঁয়া দিয়ে রাস্তার সমান ভরাট করছে। পরে তার উপর রোলার দিয়ে রোলিং করা হচ্ছে। ভরাটের কাজ চলছে মেহেরপুর সদরের রাজনগর এলাকায়। মাটি মিশ্রিত ইটের খোঁয়া অন্য জায়গা থেকে মিশিয়ে নিয়ে পাওয়ারট্রিলার যোগে সড়কের পাশে রাখছে। তারপর সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে সড়কের কাজে। এডিপি ভুক্ত ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে মেহেরপুর জেলার আঞ্চলিক মহাসড়কে। যৌথ তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজ করছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলো আরএবি-আরসি প্রাইভেট লিমিটেড, রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেড ও জহিরুল লিমিটেড (জেভি)। সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুর` হয়েছে ২০১৭ সালের ৫ জুন থেকে। শেষ হবে ২০১৮ সালের ৪ জুন। সড়কের কাজের ব্যায় ধরা হয়েছে ৭৩ কোটি ৪৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০৫টাকা।প্রকল্প সংশোধিত ডিপিপি ২০১৬ সালের ২৯ নভেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়। আর প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসাবে সড়কের এ কাজ চলছে। মেহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজে অনিয়ম ও দুর্ণিতির চিত্র ফুটে উঠেছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা পানিতে পড়বে। রাস্তা কত দিন স্থায়ী হবে? এ কাজের তদারকি করছেন মেহেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের এসডি তানভির আহমেদ। তিনি বলেন প্রতিদিনই কাজের দেখাশুনা করতে হয় আমাকে। মাটি না বালি বিষয়টি হল বৃষ্টির পানিতে ভিজলে বালির রং পরিবর্তন হয়ে অনেকটা মাটির মত মনে হয়। সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মধ্য রয়েছে সড়কের দুই পাশ তিন ফুট করে প্রশস্তকরণ, ড্রেন নির্মাণ, কালভার্ট নির্মাণ, সাইন সিগনাল, কি:মি: পোষ্ট ও হার্ডসোলডারসহ অন্য কাজ।সড়কের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, শ্রমিক হিসাবে আমরা এখানে কাজ করছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার যে ভাবে বলবে সে ভাবে কাজ করতে আমরা বাধ্য। বালি না মাটি দিয়ে কাজ হচ্ছে সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়।জনসাধারণ বলছেন, ঠিকাদার ও কাজের ম্যানেজারের কাছে মাটির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বলেন এ ভাবেই কাজের নির্দেশনা দেওয়া আছে। সড়কের কাজ দেখার দায়িত্ব যাদের তারা কাজ বুঝে নেবেন। আপনাদের মাথা ব্যাথার দরকার নেই। জহিরুল লিমিটেডের (জেভি) স্বত্বাধিকারী জহিরুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার সড়ক নির্মাণ কাজের অনিয়মের বিষয় জানতে কল দেওয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়। আবারও মোবাইল নাম্বারে কল দেওয়া হলে তিনি কলটি কেটে দেন। মেহেরপুর জেলা উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, মাটি বালি ও নি¤œ মানের উপকরণ দিয়ে সড়ক নির্মান কাজ চলছে। যে ভাবে রাস্তার কাজ হওয়া দরকার সে ভাবে হচ্ছে না। যারা জনগণের টাকা নষ্ট করছে তাদের একদিন হিসাব দিতে হবে। কাজের কোথাও সাইন বোর্ড লাগানো হয়নি। বিষয়টি অন্ধকারে থেকে যাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহি কর্মকর্তা এবং মেহেরপুর জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার জানান, মাটি মিশিয়ে রাস্তার কাজের বিষয়টি আপনি আমাকে জানানোর পর খোজ নিয়েছি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও সড়ক ও জনপথ বিভাগরে দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টির পানিতে বালির রং মাটির মত দেখায়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজের নিয়ম মেনেই কাজ করছে। কাজে কোন সমস্যা থাকলে বিষয়টি আমি দেখব। জেলা প্রশাসক পরিমল কুমার সিংহ জানান, জেলার উন্নয়ন মুলক কাজে কোন অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। সড়ক নির্মানে সিডিউল অনুযায়ী জিনিস দিয়ে কাজ না করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য,মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কের ৯ কি:মি: কাজ শেষ হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)