ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন ডিহি কৃষ্ণপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হারুন অর রশিদ (৬০) ও তার ছেলে আলামিনকে (২৫) কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে গ্রামের চাত্রার বিল মাঠে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। জখম হারুন অর রশিদ একই গ্রামের রনগোহাইলপাড়ার নবীছদ্দিন মন্ডলের ছেলে।
জানা গেছে, দেড় বছর পূর্বে কেনা হারুন অর রশিদ চাত্রার বিল মাঠে ১০ কাঠা শরিকানা জমি ক্রয় করেন। এই জমি নিয়ে বিক্রেতা ফতে বেগমের দুই ভাতিজা আবুল কালাম ও আলাউদ্দীনের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। জমি হারুন অর রশিদের দখলে থাকলেও দুইদিন আগে ওই জমিতে আবুল কালাম ও তার ভাই আলাউদ্দীন কুমড়ার বীজ বপণ করে। গতকাল সকালে ওই জমি ধান চাষের জন্য মাপযোপ করার সময় আবুল কালাম ও আলাউদ্দীন সেখানে পৌঁছে হারুন অর রশিদ ও আলামিনকে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা জখম দুজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতদের মধ্যে পিতা হারুন আর রশিদ সদর হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য আলামিনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।
সদর হাসপাতালে চিকৎসাধীন অবস্থায় জখম আলামিন বলেন, ‘সকালে আমার বাবা ও আমি দুজনে মাঠে আমাদের জমিতে ধান চাষের জন্য জমির আইলি পরিমাপ করতে যায়। সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ আবুল কালাম ও আলাউদ্দীন দুই ভাই সেখানে এসে পেছন থেকে আমাদের এলোপাতাড়ি কোপ মারতে শুরু করে। দুজনের হাতেই বাঁশছোলা দা ছিল। আমাদের চিৎকারে মাঠের অন্য কৃষকরা ছুটে এলে ওরা দুই ভাই দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।’
আলামিনের বোন শিলা খাতুন জানান, তার পিতা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে গতকাল রাতেই আলামিনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জখম হারুন আর রশিদ বলেন, গ্রামের ইসলামের মেয়ে ফতে বেগমের থেকে ১০ কাঠা জমি ক্রয় করি। কিন্ত ইসলামের দুই ছেলে কামাল ও আলাউদ্দিন আমার জমি দখল নিতে বাধা দেয়। তারপর কোর্টে মামলা দায়ের করি। গতকাল উক্ত জমিতে আমার ছেলে ও আমি ধান লাগানোর জন্য আইল কাটতে গেলে কামাল ও আলাউদ্দিন আমাদের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিল্পব কুমার সাহা বলেন, এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
