ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় বৃষ্টির জন্য দুই রাকাত ইস্তিস্কার নামাজ আদায় করে বিশেষ মোনাজাত করেছেন মুসল্লিরা। স্মরণকালের অসহনীয় গরম আর তাপপ্রবাহে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষজন এসময় স্বস্তির বৃষ্টির আকুতি জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা সম্মিলিত উলামা কল্যাণ পরিষদের আয়োজনে শহরের টাউন ফাটবল মাঠে এ নামাজ আদায় করা হয়। এতে ইমামতি করেন চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুদ্দিন। নামাজ শেষে দোয়া পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা বড় মসজিদের ইমাম আলহাজ্ব হযরত মাওয়ালা বশির আহমেদ।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দাবদাহে পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা অঞ্চল। স্মরণকালের অসহনীয় গরম আর তাপপ্রবাহে মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ছটফট করছে পশুপাখি ও জীবজন্তু। কড়া তাপদাহে ফসলি জমি শুকিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে খরা ও অনাবৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে সকালে ইস্তিসকার নামাজ আদায় করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। নামাজ শেষে অব্যাহত অনাবৃষ্টি থেকে মুক্তির জন্য ও আল্লাহর রহমত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এসময় দুই হাত তুলে আল্লাহর দরবারে বৃষ্টির জন্য হু হু করে কাঁদতে থাকেন নামাজে অংশ নেয়া সাধারণ মানুষ। নামাজে অংশগ্রহণ করা মুসল্লি খালিদ হোসেন বলেন, ‘আমি এমন অনাবৃষ্টি দেখিনি। এবার প্রথম এ রকম তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। আজকে এই নামাজ পড়তে মাঠে এসেছি।’
আরেক মুসল্লি আরাফাত হোসেন বলেন, ‘আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে শান্তি ও স্বস্তির বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছি। অসহ্য গরম আর দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত। কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিশু ও বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’
বিশেষ এ নামাজ ও দোয়া পরিচালনা শেষে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলার সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা সম্মিলিত উলামা কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আল্লাহর কাছে আমরা আমাদের পাপের জন্য ক্ষমা চেয়েছি। তাঁর কাছেই আমরা অনাবৃষ্টি থেকে মুক্তি চেয়েছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং তিনি চাইলে এই অসহনীয় গরম ও তাপপ্রবাহ থেকে আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব। আল্লাহ আমাদেরকে বৃষ্টির মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাবেন ইনশাআল্লাহ।’
