ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন:
পুরানোকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে আহ্বান জানানোর মাধ্যমে সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। ‘বাংলা নববর্ষ-১৪৩১’ কে বরণ করে নিতে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহসহ দেশব্যাপী ছিল নানা আয়োজন। বাঙালি চেতনার ধারক মঙ্গল শোভাযাত্রা, গান, নাচ, বৈশাখী মেলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মানুষ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
চুয়াডাঙ্গা:
পহেলা বৈশাখে প্রভাতের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবে মেতে উঠলো পুরো জাতি। জীর্ণ পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে শুভ সম্ভাবনার নতুন দিন আনবার প্রত্যয়ে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলো সংশয়বিনাশী চিত্ত। পহেলা বৈশাখে নতুন বছরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হলো প্রভাতি অনুষ্ঠান। শুরু হলো বাঙালির বর্ষবরণ। যেমন ছায়ানট আর বাঙালির বর্ষবরণ এখন সমার্থক। তেমনি চুয়াডাঙ্গাবাসীর জন্যও থাকে কিছু আয়োজন। প্রতিবছরের মতো এবারও মুকুল ফৌজ’র আয়োজন ছিল ভিন্ন, ঊষালগ্নে ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে চুয়াডাঙ্গা আবৃত্তি পর্ষদের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ভেসে এলো ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’, ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’। তাদের গানের মধ্যদিয়েই যেন উদিত হলো নতুন বছরের নতুন সূর্য। শুভ দিনের প্রত্যাশায় মানুষের মনে গুনগুনিয়ে উঠলো ‘নব আনন্দে জাগো আজি নব রবি কিরণে’। স্বাগতম ১৪৩১, সুস্বাগত। প্রকৃতির নিয়মে আসে বৈশাখ। কিন্তু পহেলা বৈশাখ জাতির জীবনে আসে দিনবদলের অঙ্গীকার নিয়ে। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রত্যয়ে উদ্যাপিত হলো এবারের নববর্ষ। পৃথিবীজুড়ে প্রতিটি বাঙালি গানে গানে আহ্বান জানায় সম্ভাবনাময় নতুন দিনকে। গানের পংক্তি উচ্চারণে তারা বর্জন করতে চাইছে জীবনে জড়িয়ে থাকা সকল পঙ্কিলতাকে। বরণ করে নিতে চাইছে নতুন বছরকে। এরপর চুয়াডাঙ্গা ভি জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (চাঁদমারী) মাঠ থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শহিদ মিনারের বিপরীতে পৌর মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এখানেই তিন দিনব্যাপী পৌর বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া দিনব্যাপী জেলাব্যাপী নানা আয়োজন ছিল বাঙালির বর্ষবরণের অনুসঙ্গ।

মুকুল ফৌজ’র আয়োজন:
‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ সুরে সুরে দীর্ঘ ২৮ বছরের ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারও নববর্ষকে স্বাগত জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী মুকুল ফৌজ ও চুয়াডাঙ্গা আবৃত্তি পর্ষদ। ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সকাল ছয়টা থেকে শিক্ষার্থীদের বৈশাখের আগমনী গান আর বাংলা নাচে মেতে ওঠে সকলে। পুরো আয়োজনজুড়ে মোহিত হয়ে ছিল আগত দর্শকশ্রোতা। সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা, মুকুল ফৌজ’র প্রধান দরদী বোন ও মুখপাত্র রাশেদা হাসনুয়ারা বানু, আবৃত্তি পর্ষদের পরিচালক মনোয়ারা খুশি ও ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা। এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম ইস্রাফিল, চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহাতাব উদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবৃত্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠাতা মরিয়ম শেলী, চুয়াডাঙ্গা কালক্টেরেটের সহকারী কমিশনার আবদুর রহমান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নুঝাত পারভীন প্রমুখ।

বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা:
সকাল সাড়ে ৮টায় চুয়াডাঙ্গা ভি জে সরকারি উচ্চবিদ্যালয় (চাঁদমারী) মাঠ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। এতে অংশ নেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষ। চিরায়িত ‘মুছে যাক সব গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে সূচি হোক ধরা। রসের আবেশ রাশি শুষ্ক করি দাও আসি। আনো, আনো, আনো তব প্রলয়ে শাঁখ, মায়ার কুজ্ঝটি জাল যাক দূরে যাক।অশুরবাষ্প সুদূরে মিলাক...এসো, এসো, এসো, হে বৈশাখ...এসো এসো স্লোগানে মুখরিত ছিল শোভাযাত্রা। লোকজ ঐতিহ্যের চিত্র মেলে ধরে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের পালকী, বর-বধূ সমেত বরযাত্রীসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নানান সাঁজ। এছাড়া অনুষঙ্গের মধ্যে ছিল রঙ-বেরঙের মুখোশ। শোভাযাত্রাটি চাঁদমারী মাঠ থেকে শুরু হয়ে কোর্ট মোড় ঘুরে কলেজ রোড হয়ে সরকারি কলেজ চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শোভযাত্রায় পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বলয় চোখে পড়ার মতো ছিল।

পৌর মুক্ত মঞ্চে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান:
বাংলা নববর্ষবরণ-১৪৩১ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বিপরীতে পৌর মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রা পরবর্তী ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রেরণার উৎসব। বর্ষবরণে কোনো ধর্মীয় আবরণের সম্পর্ক নেই। সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে এই প্রাণের উৎসবে মেতে ওঠেন। এই উৎসবকে আরও জোরালো ও সুন্দরভাবে উদ্যাপন করার মধ্যদিয়ে আমরা শক্তিশালীরূপে একটি বার্তা দিতে চাই যে, বাঙালি জাতি একটি অসাম্প্রদায়িক জাতি। আমাদের সংস্কৃতি আমাদের সম্পদ। এই সংস্কৃতি নিয়ে সারা পৃথিবীতে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছি। কোনো অপশক্তি আমাদের এই অর্জনকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না। সবার সম্মিলত প্রচেষ্টায় বাংলা সংস্কৃতি আরও দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে।’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সী আবু সাইফের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী আলমগীর হান্নান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী দলের মধ্য থেকে মূল্যায়নের মাধ্যমে ৩টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিতদের পুরস্কৃত করা হয়। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীদের নাচ ও গানের মেতে ওঠে মেলা প্রাঙ্গন।

আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা বর্ষবরণ পহেলা বৈশাখ উদ্যাপিত হয়েছে। বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলা চত্বর থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্নিগ্ধা দাস ও উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। শোভাযাত্রা শেষে আলমডাঙ্গা উপজেলা মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্নিগ্ধা দাসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আইয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গনি মিয়া, সাবেক পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহিল কাফি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মইদ্দিন পারভেজ।
কলেজিয়েট স্কুলের উপাধ্যক্ষ শামিম রেজার উপস্থাপনায় বর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা এনামুল হক, প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যাপক মন্ডলি, মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আশুরা খাতুন পাতা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাকসুরা জান্নাত, তথ্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাস, আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান, এম সবেদ আলী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান, এরশাদপুর একাডেমির প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারেজ উদ্দিন, আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাশির উদ্দিন এ্যাটোম, সমিতির সভাপতি রেফাউল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষ কবিতা আবৃতি, নৃত্য, সংগীত ও যেমন খুসি তেমন সাজ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এছাড়ও আলমডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে বর্ষ বরণ রানা আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় পৌরসভা চত্বরে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হাসান কাদীর গনু।

দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় ‘বাংলা নববর্ষ-১৪৩১’ কে বরণ করতে মঙ্গল শোভাযাত্রা, গণজমায়েত, জাতীয় সংগীত এবং লোকজ সংগীত পরিবেশন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লাঠি খেলা ও পুরস্কার বিতরণ এবং লোকজ সংস্কৃতি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে ২ দিনব্যাপী দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদ্যাপিত হয়েছে।
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোকসানা মিতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদা খাতুন, দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল কুমার দাস, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলীসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলো।

দর্শনা:
দর্শনা থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষকে বরণ করা হয়েছে। নববর্ষকে স্বাগত জানাতে ‘কণ্ঠে নতুন গগণ ভেদী’ স্লোগানে দর্শনা অনির্বাণ থিয়েটার সকাল ৭টায় গানে গানে বর্ষবরণ, কবিতা আবৃতি, বাংলা গানের সাথে নিত্য ও লোকজ সংগীত পরিবেশিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে দর্শনা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দর্শনা কেরুজ ফুটবল মাঠে গিয়ে শেষ হয়। বৈশাখী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন ও আলোচনা করেন দর্শনা পৌর মেয়র আতিয়ার রহমান হাবু। এছাড়া বৈশাখী আলোচনা ও র্যালিতে অংশ নেন দর্শনা মুক্তিযোদ্ধা পৌর কমান্ডর বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী, অনির্বাণ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, দর্শনা গণউন্নয়ন গ্রন্থাগারের পরিচালক আবু সুফিয়ান, প্রভাষক বাবুল, আব্দুস সামাদ (বুক্কা), বজলুর রহমান, তারিক ও আব্দুস সামাদ। বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী মোস্তাক আহম্মেদ মনার পরিচালনায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন রেশী, রিয়া ও দিয়া। কবিতা অবৃতি করেন মুরশীদ আলম, অনেশা বোষ, স্বর্গ ও প্রিয়াশী। এছাড়া দর্শনা হিন্দোল সংগীত, দর্শনা পৌর এলকার সকল স্কুল-কলেজ মাদ্রসা ও ওয়েভ ফাউন্ডেশন পান্তা ইলিশ ও লুচি-বুইনদা খেয়ে পহেলা বৈশাখ পালন করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আব্দুল ওয়াদুদ শাহা ডিগ্রি কলেজের সহকারী প্রভাষক মিল্টন কুমার সাহা।
উল্লেখ্য, দর্শনা অনির্বাণ থিয়োটারে উদ্যোগে বাংলা ১৩৯৯ সনে দর্শনায় প্রথম বারের মতো পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার সূত্রপাত করেন আব্দুস সামাদ, আনোরুল ইসলাম বাবু, সাফায়েত আলম টুটু, আব্দুস সবুর, রবিউল আলম বাবু, আলী মুনছুর বাবু, বাট্টু সামাদ, গোলাম ফারুক আরিফ, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, আশরাফ আলম বাবু, আব্দুস সামাদ আজাদ পিপু, আওয়াল হোসেন, বাবুল রায়হান, লাল্টু, উত্তম ও মঙ্গল।

জীবননগর:
জীবননগরে নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শোভাযাত্রা, রচনা প্রতিযোগিতা, জীবননগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে তিন দিনব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক মেলা, দেশীয় ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে লাঠি ও সাপ খেলা পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসিনা মমতাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈসা ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জীবননগর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুল জব্বার। উপস্থিত ছিলেন জীবননগর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জিএ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বাবু, আবু সাঈদ প্রমুখ।

মুজিবনগর:
বাংলা নববর্ষ ১৪৩১-কে বরণ উপলক্ষে মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পান্তা উৎসব পালিত হয়েছে। রোববার সকালে মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জাতীয় সংগীতের তালে তালে পহেলা বৈশাখ বাংলার নববর্ষের শুভ সূচনা করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় বৈশাখের গান ‘এস হে বৈশাখ’। এরপরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুল ইসলামের নেতৃত্বে মুজিবনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি কেদারগঞ্জ বাজার প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে অংশ নেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুস সাদাত রত্ন, মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উজ্জ্বল কুমার দত্ত, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম তোতা, উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মোমেন, মহাজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু, বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ূব হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসরুবা আলম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলিম রেজা, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সকলেই পান্তা উৎসবে অংশগ্রহণ করেন এবং উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় ।
