ছবির ক্যাপশন:
বাংলাদেশ কাওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৪৭তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষা-২০২৪ এ অংশগ্রহণ করে সাফল্য দেখিয়েছে চুয়াডাঙ্গা পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা। পরীক্ষায় সারা দেশের মধ্যে সেরাদের তালিকায় মাদ্রাসার মুতাওয়াসসিতাহ শ্রেণির থেকে এক শিক্ষার্থী ৪৫তম এবং ইবতেদাইয়া মারহালা শ্রেণির ছয় শিক্ষার্থী ৩৮তম (দুইজন), ৬৬তম, ৭৩তম, ৭৬তম ও ৮৬তম স্থান অর্জন করেছেন। পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার মুতাওয়াসসিতাহ শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াজ কুরুনী। এছাড়া ইবতেদাইয়া মারহালার ৬ শিক্ষার্থী হলো- মো. রোকনুজ্জামান, পারভেজ হোসেন, মো. আব্দুল্লাহ, মো. রাফিউল্লাহ, তহিদুল ইসলাম ও বায়জিদ হোসেন।
জানা যায়, বাংলাদেশ কাওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৪৭তম ইবতিদাইয়্যাহ-২০২৪ অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় চুয়াডাঙ্গা পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার ৫০ জন ছাত্র অংশগ্রহণ করে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ৪ এপ্রিল ৪৭তম পরীক্ষার ফলাফল হাতে পায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। ছাত্রদের মধ্যে মেধাতালিকায় স্থানসহ আরও ১০ ছাত্র কৃতিত্বের সঙ্গে (এ+) পেয়ে কৃতকার্য হয়।
এদিকে, সারা জেলার মধ্যে সেরা সাফল্য অর্জন করায় মাদ্রাসার দুই কৃতী শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসাটির পরিচালক বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুর (বিডিচ্যাম)-এর প্রেসিডেন্ট, সাহিদ গ্রুপের চেয়ারম্যান, হোটেল সাহিদ প্যালেস অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাহিদুজ্জামান টরিক।
উল্লেখ্য, একটি সুন্দর দ্বীনি-শিক্ষার ভাবনা নিয়ে মৃত হাজি শামসুজ্জোহা বিশ্বাস ২০০১ সালে মাত্র ১৩ জন ছাত্র ও একজন শিক্ষক নিয়ে একটি চালা-ঘরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের পাঁচকমলাপুর গ্রামে ‘পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম কওমিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ নামে দ্বীনি-শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১০ সালে হাজি শামসুজ্জোহা বিশ্বাসের মৃত্যুর পর এই মাদ্রাসাটির পরিচালকের দায়িত্ব নেন তাঁর পুত্র চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান ও দানবীর হিসেবে খ্যাত আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক। একজন সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে পিতার সুস্বপ্নকে আন্তরিকতা, ভালোবাসা, মেধা ও শ্রম দিয়ে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।
২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মাদ্রাসাটিতে ছাত্রদের জন্য লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। যেখানে তিন বেলা মাদ্রাসার সকল ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। বহুল ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিননন্দন পাঁচতলা একাডেমিক ভবন। এই ভবনে একসঙ্গে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও আবাসনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। খোলামেলা ও মনোরম পরিবেশে দৃশ্যমান এ মাদ্রাসাটির সুবিশাল খেলার মাঠসহ লাল সিরামিক ইট ও নান্দনিক ব্লকের গাঁথুনী নজর কাড়বে সবার। পাঠদান, থাকা ও খাওয়ার সুযোগ সুবিধাসহ আধুনিক এই মাদ্রাসাটি ইতিমধ্যেই সমাদৃত হচ্ছে সারা দেশব্যাপী।
