ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গার বেলগাছী ইউনিয়নে পুকুর খননের নামে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ট্রাক্টর ও লাটাহাম্বার দিয়ে এসব মাটি দিনরাত বহন করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। ফলে নষ্ট হচ্ছে পাঁকা সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। এ বিষয়ে প্রশাসন অবহিত থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এদিকে, অবৈধভাবে মাটিকাটার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে প্রতিবেদক মুন্সি সোহাগকে হুমকি দিয়েছে অভিযুক্তরা।
জানা যায়, গত এক মাস ধরে আলমডাঙ্গার বেলগাছি গ্রামের বাদল ও জলিল অবৈধভাবে পুকুর খননের নামে মাটি ও বালি বিক্রি করছেন। এ নিয়ে গত ৩ মার্চ পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই সময় চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার মাটিকাটা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এক মাস পার হলেও প্রশাসনিক কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। ফলে তারা অব্যহতভাবে এক্সেভেটর দিয়ে পুকুর খনন করে মাটি, বালি ট্রাক্টর ও লাটাহাম্বার দিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পাঁকা রাস্তার ওপরে বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। ট্রাক্টর ও লাটাহাম্বারে করে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার ওপরে কাঁদা-মাটি, বালি পড়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমনকি মাটিবাহী ট্রাক্টর, লাটাহাম্বার চলায় রাস্তাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাঁকা রাস্তায় কাঁদা-মাটি পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে পুকুর মালিক বাদলের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি পুকুর খননের জন্যে উপজেলায় আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত অনুমতির কাগজ হাতে পাইনি।’ এসময় তিনি এ প্রতিবেদককে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনি আমাদের পুকুর খননের বিষয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেছেন, আজকে আবার ভিডিও ছবি করে নিয়ে গেছেন। আপনি কীসের সাংবাদিক? আবার যদি সংবাদ প্রকাশ হয়, তাহলে আপনাকে দেখে নেব।’
পরে একই গ্রামের কিতাব আলী এ প্রতিবেদকের মোবাইলে কল দিয়ে বলেন, ‘পুকুর খননের কন্ট্রাক আমি নিয়েছি। আমার কাছে ফোন দেবেন, বাদলের কাছে কেন ফোন দিয়েছেন? আমি বেলগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান চঞ্চল ও তার ভাই হিমেলের নির্দেশে পুকুর খনন করছি। চেয়ারম্যান মাহামুদুল হাসান চঞ্চল তার নিজের পুকুর খনন করছে। এলাকায় অনেক পুকুরে মাছ চাষ করে আসছে চেয়ারম্যান।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেলগাছি ইউপি চেয়ারম্যান মাহামুদুল হাসান চঞ্চল বলেন, ‘কিতাব আমার কর্মী, হামিদ মন্ডলের ছেলে বাদল ও তাঁরাচাদ মন্ডলের ছেলে জলিলের জমি কিতাব কন্ট্রাক নিয়ে পুকুর খনন করছে। তারা আমার নাম ভাঙালেও আমি এ বিষয়ে জড়িত না।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্নিদ্ধা দাস বলেন, ‘অবৈধভাবে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির বিষয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, বিষয়টি আমার জানা নেই। সংবাদ প্রকাশের কপি থাকলে পাঠান।’ তিনি অবৈধভাবে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
