ছবির ক্যাপশন:
আইনের তোয়াক্কা না করে আলমডাঙ্গার উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে এসব কাঠ সংগ্রহ করায় হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। এরমধ্যে অধিকাংশ ইটভাটারই লাইসেন্স নেই। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের তেমন তৎপরতাও চোখে পড়ে না। এছাড়াও ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুকুর খননের নামে মাটি কেটে এসব অবৈধ ভাটার প্রধান কাঁচামালের যোগান দেওয়া হচ্ছে। আবার অবৈধ যান ট্রাক্টর ও লাটাহাম্বারে মাটি বহন করায় রাস্তাগুলোতে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মাটিবাহী গাড়িগুলো থেকে রাস্তায় কাঁদা-মাটি পড়ে তা ধুলোর সৃষ্টি করছে। সড়কের পাশের বসতবাড়িতে ধুলোর আস্তরণ পড়ছে। আবার অবৈধ এসব ইটভাটায় দিনের পর দিন কাঠ ও লাকড়ি পোড়ানো হলেও কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের প্রধান সড়কের পাশে জাবর ও চান্দালীর দুটি ইটভাটা রয়েছে। এছাড়াও কুমারী ইউনিয়নের গেট বন্ডবিল এলাকায় বাবু মুন্সিরও ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কাঠ। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের থেকে এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ফরিদপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব ইটভাটাগুলো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবৈধ ট্রাক্টরে শত শত গাড়ি মাটি পরিবহন করে। এতে সড়কে কাঁদামাটিতে রাস্তায় যাতায়াতে অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়নত দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে।
বাড়াদী গ্রামের আব্দুল জব্বার জানান, গেট বণ্ডবিল এলাকার বাবু মুন্সির ইটভাটার অত্যাচারে পথচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। একদিকে অবৈধ ট্রাক্টরের উৎপাত, অন্যদিকে পোড়া কাঠের ধোয়া বাতাসে মিশে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। সড়কে পড়ে থাকা কাঁদামাটি হালকা বৃষ্টিতে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার মৌখিক অভিযোগ করলেও কোনো সুরাহ মেলেনি।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্নিগ্ধা দাস বলেন, ‘বিভিন্ন ইটভাটায় আমাদের অভিযান অব্যহত আছে। আইন অমান্য করে কোনো ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না। উপজেলা প্রশাসন থেকে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
