ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানার তিন দারোগার বিরুদ্ধে দুই যুবককে আটকিয়ে মাদক মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৬৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে জীবননগর ডিগ্রি কলেজের পিছনে এ ঘটনা ঘটে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলার কাজিরবেড় গ্রামের ত্রাণ (২০) ও জীবননগর উপজেলার পাথিলা গ্রামের আবু বকর নামের দুই যুবক জীবননগর ডিগ্রি কলেজের পিছনে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে আসেন। এসময় স্থানীয় কিছু যুবক তাদের আটকিয়ে মাদকসেবী সাজিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। জীবননগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দিপু, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মল্লিক শরিফ ও এএসআই আনোয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই দুই যুবককে আটক করে ও তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় পুলিশ থানায় না নিয়ে যেয়ে তেঁতুলিয়া মাঠের মধ্যে ওই দুই যুবককে আটকিয়ে তাদের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে রাজি না হলে পুলিশ তাদের মাদক দিয়ে চালান দিবে বলে হুমকি প্রদান করে।
এক লাখ টাকা তাদের পরিবারের পক্ষে দেওয়া সম্ভব না বলে জানান ওই যুবক। তবে শেষ পর্যন্ত তাও রক্ষা হয়নি। যুবকদের পরিবারের লোকজন ওই স্থানে এলে তাদের সাথে পুলিশের ৬৫ হাজার টাকায় রফা হয়। যুবকদের পরিবারের লোকজন কাছে থাকা ৩০ হাজার টাকা দিতে গেলেও পুলিশ তাতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওই রাতে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজন যুবকদের কাছে থাকা নম্বরে বাকি টাকা বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে পাঠায়। তারপর শুক্রবার ভোর তিনটার দিকে ওই দুই যুবককে ছেড়ে দিলেও তাদের মুঠোফোন রেখে দেয় পুলিশ। শর্ত দেওয়া হয়, সকালে এসে টাকা বিকাশ ও নগদ থেকে উঠিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে দিয়ে মুঠোফোন ফেরত নিতে হবে। ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের নিঞ্জা টেকনিক অনুসারেই ওই যুবকরা সকালে এসে টাকা উঠিয়ে দিয়ে মুঠোফোন ফেরত নেয়।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই তিন পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জীবননগর উপজেলার এক জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে ওই যুবকদের ২০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জীবননগর থানার এএসআই আনোয়ারের সাথে কথা বললে তিনি বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানান। এএসআই মল্লিক শরিফ বলেন, ‘এ ঘটনার কোনো সত্যতা নেই, এটা মিথ্যা। ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। এমন কোনো ঘটনা আমার সঙ্গে ঘটেনি।’
তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা যায়, জীবননগর থানার এএসআই মল্লিক শরিফ এবং এএসআই আনোয়ারের বিরুদ্ধে এর আগেও মোটা অংকের টাকা নিয়ে মাদকসহ আসামি ছেড়ে দেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রশাসনিকভাবে তেমন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক এ ধরনের কর্মকাণ্ড করেই চলেছেন তারা।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম জাবীদ হাসানের সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) নাজিম উদ্দীন আল আজাদ বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার কথা এখনো শুনিনি। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখে তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’
