অবশেষে ওএসডি হলেন ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সহকারি পরিচালক পদে পদায়ন

আপলোড তারিখঃ 2024-03-10 ইং
অবশেষে ওএসডি হলেন ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হিসেবে পদায়নের পর নতুন করে ওএসডি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-২ অধিশাখার যুগ্ম সচিব মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বিপিএএ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে ওএসডি করে ময়মনসিংহ ম্যাটসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ মার্চ যুগ্ম সচিব মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বিপিএএ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই চিকিৎসককে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল বোর্ড ও প্রাইভটে ক্লিনিক, এমবিপিসি শাখার সহকারী পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়।
ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। আবার একটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেরও মালিক। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নিয়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে বিনা লাইসেন্সে চালাতেন ক্লিনিক। সরকারি হাসপাতালের আসা রোগী পাঠাতেন নিজের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। যা নিয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। সেদিনই অভিযান চালিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সেই অবৈধ ক্লিনিক এবং অপারেশন থিয়েটার বন্ধ করে দেয় জেলা সিভিল সার্জন। নির্দেশ দেয়া হয় সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে চাওয়া হয় কৈফিয়ত। কিন্তু তিনি কৈফিয়ত দিয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। অথচ ওই ঘটনার একমাস পেরোতে না পেরোতেই অবৈধ হাসপাতাল চালানো সেই চিকিৎসককেই পদায়ন করা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল বোর্ড ও প্রাইভটে ক্লিনিক, এমবিপিসি শাখার সহকারী পরিচালক হিসেবে। এই পদায়নের পর অনেকেরই প্রশ্ন- তাহলে কি সেই অবৈধ ক্লিনিক মালিক চিকিৎসককেই পুরস্কৃত করলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ ‘ডক্টরস কেয়ার অ্যান্ড স্পেশালাইজড হসপিটাল’টি পরিচালনা করে আসছিলেন। যার কোন নিবন্ধন ছিল না। গত ১০ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ওই হাসপাতালে অভিযান চালান চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আউলিয়ার রহমান। অনুমোদন না থাকায় ওই দিনই বন্ধ করে দেন অবৈধ ক্লিনিক এবং অপারেশন থিয়েটার। এ ঘটনার পর ওই দিনই চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. মো. সাজ্জাৎ হোসেন আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদের কাছে কৈফিয়ত তলব করে চিঠি দেন।
চিঠিতে সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাৎ হাসান লিখেছেন, ‘আপনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও লাইসেন্স প্রাপ্ত না হয়ে ‘ডক্টরস কেয়ার অ্যান্ড স্পেশালাইজড হসপিটাল’ নামে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন, যা বাংলাদেশ মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি অধ্যাদেশ- ১৯৮২ এর পরিপন্থী এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।’ একই সঙ্গে ওই চিঠিতে বলা হয়- ‘আপনার হাসপাতাল ক্যাম্পাসের ভিতরে দালাল শ্রেণির মহিলারা রোগী ভাগানোর উদ্দেশ্যে ঘুরাঘুরি করছে। আপনি অদ্যাবধি তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন মর্মে প্রতিয়মান হয় নাই। আপনি স্বাস্থ্য বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন এবং উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর দায়িত্ব বহুলাংশে আপনার উপর বর্তায়।’ এমতাবস্থায়, ‘উল্লেখিত কারণে কেন আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হবে না তার সন্তোষজনক জবাব পত্র প্রাপ্তির ৫ কর্মদিবসের মধ্যে নিম্নস্বাক্ষরকারী বরাবর দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল।’
একই দিনে আরেকটি চিঠিতে ডক্টরস কেয়ার অ্যান্ড স্পেশালাইজড হসপিটালের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনার ২২ দিনের মাথায় ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়।
এমন পদায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী (দুলাল) বলেন, ‘আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি! বলতেই হয় সর্ষের মধ্যেই ভূত আছে! স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যারা এ কাজের দায়িত্বে আছেন, তারা নিশ্চয়ই কোন কিছুর বিনিময়ে এসব করছেন। আমি মনে করি তাদের দুইটি উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এক, তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত; দুই, ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়া। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে এদের রুখে দিতে হবে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। যেহেতু আমি জানলাম, বিষয়টি দেখবো।’
এরপর ওই চিকিৎসকের বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল শনিবার তাকে ওএসডি করে ময়মনসিংহ ম্যাটসে সংযুক্ত করা হয়। যুগ্ম সচিব মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বিপিএএ স্বাক্ষতির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১০ মার্চ ২০২৪ তিনি অবমুক্ত হবেন। অন্যথায়, উক্ত তারিখ অপরাহ্ন হতে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)