ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় প্রাক্তন ফুটবলার জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সমন্বয়ে
নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে যুব সমাজকে ক্রীড়ান্বেষী করতে এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ফুটবলের হারাতে বসা প্রাণ ফিরিয়ে আনতে যুগপোযগী উদ্যোগ নিয়েছে ক্রীড়ামোদী জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রাক্তন ফুটবলার, জেলা ক্রীড়াসংস্থা ও জেলা ফুটবল এসাসিয়েশনের সমন্বয়ে ১৫ লক্ষ টাকার বিগ বাজেট নিয়ে আগামী ৬ অক্টোবর শুরু হচ্ছে ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০১৭’। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চুয়াডাঙ্গা ফুটবল তথা ক্রিড়াঙ্গনের নবীন-প্রবীণ কৃতি ফুটবলারদের উপস্থিতি, জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সকল সদস্যদের স্বতস্ফুর্ত সমর্থন ও একযোগে কাজ করার দিপ্ত শপথ সেটাই প্রমান করলো। চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খন্দকার ফরহাদ আহমদ, পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম লাড্ডু, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক সেলিনা খাতুন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, প্রফেসর এসএম ইসরাফিল, স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিমের গোলরক্ষক আব্দুল মোমেন জোয়ার্দ্দার, প্রাক্তন কৃতি ফুটবলার আশরাফ জোয়ার্দ্দার সাবু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবীর মালিক, এ নাসির জোয়ার্দ্দার, সরোয়ার হোসেন জোয়ার্দ্দার, শুভ সকাল ক্লাবের সভাপতি মাহাবুল ইসলাম সেলিমসহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সকল নির্বাহী সদস্যগন, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সকল সদস্য, জেলার বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবের কর্মকর্তারা ও ফুটবল মোদী আমন্ত্রিত অতিথি এবং সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট সুষ্ঠভাবে শুরু ও সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুলনা বিভাগের ৯টি জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ১৬টি জেলা ফুটবল দলের অংশগ্রহণে নকআউট ভিত্তিক এ টুর্নামেন্ট আগামী ৬অক্টোবর শুক্রবার থেকে চুয়াডাঙ্গা জাফরপুরস্থ জেলা ক্রীড়া সংস্থার নতুন স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্ট শুরুর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে। টুর্নামেন্ট উপলক্ষে শহর সাজবে বর্ণিল সাজে, নান্দনিক আয়োজনে স্বাগত জানানো হবে দলগুলোকে। খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে দর্শক বৃদ্ধির জন্য ব্যপক প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার থেকে ও ডিঙ্গেদহ বাজার থেকে খেলা চলাকালিন দিনগুলোতে ফ্রি বাস সার্ভিস, ট্রাক ও অটোরিক্সার ব্যবস্থা করবে জেলা বাস-ট্রাক পরিবহণ মালিক সমিতি। তবে আগত দর্শকদের খেলা দেখার জন্য নামমাত্র ১০ টাকা করে টিকিটের শুভেচ্ছা মূল্য দিতে হবে। এ উপলক্ষে একটি স্মরণীকা প্রকাশের ব্যবস্থা করবে জেলা প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়ে গেছে কাউন-ডাউন। তবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও এ সভার কার্যক্রম সম্পর্কে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর টুর্ণামেন্ট পরিচালনা উপ-কমিটির রিভিও সভা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ টুর্ণামেন্ট পরিচালনা বিষয়ে বলেন, যারা খেলাধূলা করে ও এর সাথে সম্পৃক্ত থেকে সাংগঠনিক দায়িক্ত পালন করেন তারা অবশ্যই সাদা মনের মানুষ। এ জেলার ফুটবলের সোনালী অতীত ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবলে এখানকার ফুটবলারদের কৃতিত্বের কথা শুনেছি। আমার একার পক্ষে এক লাফে সে অতীতকে হয়তো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। তবে সকলের সহযোগিতা পেলে সে সোনালী অতীতকে স্বরণ করে ও সামনে রেখে নতুন-পুরাতন খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা ফুটবল অঙ্গনে গতি বৃদ্ধি করা সম্ভব। সভার শুরুতে চুয়াডাঙ্গার মরহুম ৩ জন প্রাক্তন ফুটবলারের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ১মিনিট নীরাবতা পালন করা হয়।
