ইউপি সদস্য জিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি বিলের মাটি বিক্রির অভিযোগ

আপলোড তারিখঃ 2024-02-20 ইং
ইউপি সদস্য জিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি বিলের মাটি বিক্রির অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নে নীধিকুন্ডু সরকারি বিল দখল করে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে রায়পুর ইউপি সদস্য জিয়াসহ প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে আশপাশের কয়েকশ একর আবাদি জমিসহ বিলের পাশে থাকা রাস্তাঘাট। আর মাটিবাহী দ্রুত গতির ট্রাক্টর চলাচলে শিশুসহ স্থানীয়দের আতস্কের মধ্যে সড়কে বের হতে হচ্ছে। তবে এসব দেখেও উপজেলা প্রশাসন না দেখার ভান করছে বলে অভিযোগ করেন সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসীর দাবি, জিয়া মেম্বারসহ স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এ কাজ করে আসছে। এ কারণে চক্রটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেও কোনো সুফল পায় না ভুক্তভোগীরা। সম্প্রতি জীবননগর উপজেলার নীধিকুন্ডু এলাকায় সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, অবৈধ মাটি ব্যবসায়ী চক্রের মূলহোতা জিয়া মেম্বার ও স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর নেতৃত্বে নীধিকুন্ডু সরকারি বিল থেকে অবৈধভাবে ভুয়া কাগজপত্র তৈনি করে দখল করে মাছ চাষ করে আসছে। এবার বিল খননের নামে দুটি ভেকু বসিয়ে প্রকাশ্যে দিনের বেলা মাটি উত্তোলন করে ইট ভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে আশপাশে অসংখ্য ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও ভিটেবাড়ি।

নীধিকুন্ডু গ্রামের সাত্তার মিয়া বলেন, শুনেছি নীধিকুন্ডু বিল সরকারি। কিন্তু জিয়া মেম্বার নিজের বলে দাবি করেন। তাছাড়া বিল খননের নামে বিলের রাস্তাটাও কি সরকারিভাবে জিয়া মেম্বারকে খনন করতে বলেছে? এই রাস্তা দিয়ে এ এলাকার মানুষজন চলাচল করে। কিন্তু সেই রাস্তার মাটি কেটে ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছে, এটা দেখার কি কেউ নেই? এভাবে বিলের মাটি কেটে নিয়ে গেলে তো এলাকার মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, দিনের বেলায় প্রতিদিন ৮-১০টা ট্রাক্টরে করে মাটি কাটছে। শাহাপুর বাজার দিয়ে মাটির গাড়ি যায়। আর শাহাপুর ক্যাম্পের পুলিশ কিছুই না দেখার ভান করে। অভিযোগ রয়েছে, ক্যাম্প পুলিশকে তারা ম্যানেজ করেছে।

শাহাপুর ক্যাম্পের টু-আইসি এসআই পলাশের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, নীধিকুন্ডু বিল খননের বিষয় আমরা ইউএনও স্যারকে জানিয়েছিলাম। স্যার ব্যবস্থাও নিয়েছিল। এটা এখন কাটছে কিনা আমার জানা নেই। তাছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পন্ন মিথ্যা।

আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসার মো. ইউনুছ আলী বলেন, নীধিকুন্ডু বিলটা সরকারি সম্পত্তি। কিন্তু জিয়া মেম্বার আদালতে মামলা করার ফলে এটা তার দখলে আছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাছাড়া নীধিকুন্ডু বিল খননের বিষয় কাউকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না এটা আমার জানা নেই। তবে মাটি কাটার বিষয়টা আমি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যারকে জানিয়েছি।

ট্রাক্টর ড্রাইভারদের সাথে কথা বললে তারা বলেন বলেন, এই জায়গাটা জিয়া মেম্বারের। আমরা তার কাছ থেকে ১ হাজার ২ টাকা দরে মাটি কিনে লতিফ ভাটায় বিক্রি করছি । এখানে জিয়া মেম্বার দীর্ঘ দিন মাছের চাষ করছে।
রায়পুর ইউপি সদস্য মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, এটা আমার জমি। এটা কোনো সরকারি জমি না। তবে এ জমি নিয়ে আমি আদালতে মামলা করেছি। আমি এখানে দীর্ঘদিন মাছ চাষ করে আসছি। এটা আরও গভীর করা হবে। এ জন্য এ মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনিকভাবে অনুমোদন নেওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কোনো অনুমোদন নেওয়া নেই। তাছাড়া আমার জমি আমি খনন করছি। এটা খনন না করলে মাছ চাষ করা যাবে না।
আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজা লিটন বলেন, আমার ইউনিয়ন থেকে বিলের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে, এ বিষয়টা এলাকার মানুষ আমাকে বলেছে, আমি এসিল্যান্ডকে বলেছি।
জীবননগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তিথি মিত্র বলেন, নীধিকুন্ডু বিল খননের নামে মাটি বিক্রির বিষয়টি আমি শুনেছিলাম। সেখানে যেয়ে জরিমানাও করেছি। এখনও যদি মাটি কাটা বন্ধ না হয় তাহলে বিষয়টি আমি দেখব।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)