ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় মাঘের শীতে নেমে এসেছে আষাঢ়ের আমেজ। গত এক সপ্তাহ ধরে এ জেলার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ওঠানামা করায় এমনিতেই তীব্র শীতে কাহিল এ অঞ্চলের মানুষ। তার ওপর গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর উত্তরের কনকনে হাওয়া। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বৃষ্টি আর শীতের দাপটে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠায় জরুরি কাজ ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। তবে জীবিকার তাগিদে শীত আর বৃষ্টিতেও শ্রমজীবী মানুষকে বের হতে হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গায় থেমে থেমে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে। গত শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শনিবার ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও রোববার ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা সোমবার ও মঙ্গলবার কিছুটা বেড়ে ১০ দশমিক ৯ ও ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও বুধবার তা আবার নেমে আসে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আর গতকাল সকাল ছয়টায় এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টায় একই তাপমাত্রা ছিল। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ।
গতকাল সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র শীত আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে মানুষ খুব একটা বাইরে বের হয়নি। সড়কে যানবাহন চলাচলও অনেক কম। এই বৈরী আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনের শুরুতে এমন বৃষ্টি তাদের কাজে বাগড়া দিয়েছে। ফলে এক প্রকার অলস সময় পার করেছেন তারা। কুয়াশায় চুয়াডাঙ্গার আকাশে সারা দিনই সূর্যের দেখা মেলেনি। চরম দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, বৃদ্ধসহ সব বয়সীরা। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল এলাকায় ইজিবাইক চালক তরিকুল ইসলাম বললেন, ‘নতুন বছরের শুরু থেকেই তীব্র শীতে আয়-রোজগার কম। বাজারঘাট করার পঁয়সাও ঠিকমতো আয় হচ্ছে না। এর মথ্যে আজ বৃষ্টির কারণে মানুষ ঘর থেকে কম বের হয়েছে। ভাড়া নেই তাই রোজগারও নেই। সংসার কীভাবে চালাবো এখন সেই চিন্তা মাথায়।’
চুয়াডাঙ্গা কোর্টপাড়ার বাসিন্দা ও ড্যাফোডিল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাদিকুর বলেন, ‘ঢাকায় শীত কম। তবে ছুটিতে নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গাতে এসে শীত উপভোগ করছি। যদিও খুব বেশি কাজ না থাকলে সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়া হয় না। আজ আবার শীতের মধ্যে বৃষ্টি হয়েছে সঙ্গে হিমেল হাওয়া। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে বাইরে এসে শীতে কাপছি।’
শহরের বড় বাজারে ফেরি করে বাদাম বিক্রি করছিলেন মণ্টু মিয়া। বেচাবিক্রি কেমন হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংসারের খরচ জোগাতে ঠাণ্ডা আর বৃষ্টির মধ্যেও বের হয়েছেন তিনি। বাড়ি ফেরার সময় ছোট মেয়ের জন্য একটা সোয়েটার কিনতে হবে। কিন্তু সকাল থেকে শহরে লোকজন নেই, তাই বিক্রিও হয়নি। তীব্র শীতে কষ্ট হলেও বাদাম নিয়ে ঘুরছেন বিভিন্ন স্থানে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, বুধবার রাতে জেলার বেশকিছু স্থানে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ১০ মিনিট পর্যন্ত জেলায় ১৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এছাড়াও দুপুরের পরে শহরসহ বেশকিছু স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়েছে। আগামী দু-একদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকলেও কুয়াশা আর আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। ২০ তারিখের পর থেকে জেলায় তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমার সম্ভাবনা আছে। এসময় মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাসও পাওয়া যাচ্ছে।
জামিনুর রহমান বলেন, মাঝেমধ্যে কিছু এলাকায় রোদের দেখা মিলেছে। তবে জানুয়ারি মাসে এই কুয়াশা একেবারে অস্বাভাবিক নয়। দেশে সবচেয়ে বেশি শীত পড়ে জানুয়ারি মাসে। এ নিয়ম মেনেই চলতি জানুয়ারি মাসের শুরু থেকেই শীত পড়তে শুরু করেছে, সেই সঙ্গে কুয়াশা।’
