ছবির ক্যাপশন:
আফজালুল হক/সোহেল সজীব: কোরবানির হাটে হাটে পশু আমদানি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে প্রতারকচক্র, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির অপতৎপরতা। গরু ব্যবসায়ী ও কোরবানির পশু কিনতে আসা লোকজনকে টার্গেট করে অজ্ঞান পার্টি চক্র এরই মধ্যে হাটে হাটে নেমেছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কায়দায় মানুষের অর্থ লুটের পাশাপাশি মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর চেষ্টায় লিপ্ত। কখনও ফেরিওয়ালা, কখনও বাদাম, চকলেট বিক্রেতা আবার কখনও যাত্রীবেশে তারা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। গতকালই চুয়াডাঙ্গায় তিন গরুব্যবসায়ীকে অজ্ঞান করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় প্রতারক চক্রের সদস্যরা।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা মুন্সিগঞ্জের দুই গরু ব্যবসায়ী অজ্ঞানপাটির খপ্পরে পড়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে শিয়ালমারীতে এ ঘটনা ঘটে। অজ্ঞানপাটির খপ্পরে পড়া দুজন হলেন, চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জের মদন বাবুর মোড় এলাকার মুজাম মালিতার ছেলে রিপন (৩০) ও একই গ্রামের জগন্নাথ পাড়ার লথিফ উদ্দীন চৌধুরীর ছেলে সোনা চৌধুরী (৫০)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ১১টার দিকে রিপন ও সোনা চোধুরী নিজ বাড়ি ধেকে গরু কেনার উদ্দেশ্যে শিয়ালমারী গরুর হাট থেকে বাসাযোগে রওনা হয়।পরে বাসের ভিতরে পেয়ারা ওয়ালার নিকট থেকে পেয়ারা খেয়ে তারা অজ্ঞান হয়ে পড়ে রিপনের কাছে থাকা নগদ আনুমানিক এক লাখ টাকা ও সোনা চৌধুরীর নিকট এক লাখ চল্লিশ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। পরে শিয়ালমারি হাটে বাসের হেলপার তাদের দুই জনকে নামিয়ে দেন। পরে মুন্সিগঞ্জের এক ব্যাক্তি তাদের দেখে চিনে ফেলে বাসায় খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা দুজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রিপন ও সোনা চৌধুরির জ্ঞান ফেরেনি।
অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গার মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালি গ্রামে শরিফুল (২৬) নামে এক যুবক অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, গতকাল সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালি গ্রামের কিবরিয়া মন্ডলের দুই ছেলে শরিফুল ও শাহাঙ্গীর ৬৪ হাজার টাকা নিয়ে শিয়ালমারীর হাটে গরু কেনার জন্য রওনা দেয়। চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার থেকে দুই ভাই বাসে উঠে আলাদা আলাদা ছিটে বসে। বাসে ওঠার পরই পিছু নেয় অজ্ঞানপার্টির দুই সদস্য। একজন কাশির ট্যাবলেট, চকলেট বিক্রেতা সেজে বাসে ওঠে, অপরজন শরিফুলের পাশে যাত্রী বেশে বসে তার সাথে খাতির জমায় অজ্ঞানপার্টির এক সদস্য। এসময় বাসের মধ্যেই থাকা চকলেট বিক্রেতার কাছে থেকে আচার কিনে শরিফুলকে খাওয়ায় ওই প্রতারক। আচার খেয়ে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। তবে, ৬৪ হাজার টাকা বড় ভাই শাহাঙ্গীরের কাছে ছিল। আর শরিফুলের কাছে মাত্র ১৫০ টাকা থাকাই অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায়। পরে শাহাঙ্গীর বিষয়টি বুঝতে পেরে শরিফুলকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এভাবেই বর্ণনা দেন সাথে থাকা বড় ভাই শাহাঙ্গীর।
