গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিং

আপলোড তারিখঃ 2023-04-17 ইং
গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিং ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন: দেশে চলছে ভয়াবহ তাপদাহ। ঢাকায় গত ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং চুয়াডাঙ্গায় টানা ১৫ দিন দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছে। আর এই তীব্র তাপদাহের মধ্যে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসেবে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ হাজার মেগাওয়াট বলা হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদন ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে রামপাল, আশুগঞ্জ নর্থ ও আশুগঞ্জ ইস্ট- এই তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র কারিগরি ত্রুটির কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। এ তিনটি কেন্দ্র থেকে এক হাজার ৪৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। এগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এমনিতেই প্রচণ্ড গরমের কারণে ঘরে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে, এর ওপর লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকারে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে, চাহিদার চেয়ে উৎপাদন এক হাজার মেগাওয়াট কম রয়েছে। কিন্তু সারা দেশে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কোথাও কোথাও একটানা এক ঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় দিনে-রাতে ছয়-সাতবার লোডশেডিং হচ্ছে। পিডিবির পরিচালক (জনসংযোগ) মো. শামীম হাসান গতকাল লোডশেডিংয়ের বিষয়ে বলেন, এমনিতেই গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে, সেই সাথে ঈদ সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের সব জায়গার বিপণিবিতানগুলোতে এসি চালানো হচ্ছে। এসব কারণে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। কিন্তু ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো আশুগঞ্জ নর্থে এবং ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো আশুগঞ্জ ইস্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রে। এ দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এর সাথে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যে ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো সেটিও হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে এক হাজার ৪৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম সরবরাহ হচ্ছে। তিনি বলেন, রোববার সারা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন হয়েছিল ১৪ হাজার ৯৯৯ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় ঘাটতি দেখানো হয়েছে এক হাজার এক মেগাওয়াট। এ দিকে গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশে অস্বাভাবিক তাপদাহ বিরাজ করছে। প্রতিদিনই সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ছে। মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। কিন্তু গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরম আকারে পৌঁছে গেছে। দিনে বাসায় থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাতে মশার যন্ত্রণা। পাশাপাশি গরমের সাথে ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ায় সারারাতই নির্ঘুম কাটাতে হচ্ছে নগরবাসীর। আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, দিনে গরমের কারণে বাসায় না থেকে চাইলে এদিক-সেদিক ঘোরা যায়। কিন্তু রাতে তো ঠিকই ঘরে যেতে হয়। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তখন ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। রাতে এমনিতেই ফ্যানের বাতাসে কাজ হয় না। তার ওপর লোডশেডিংয়ে এ দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। ছোট বাচ্চা নিয়ে রাত কাটে অনেকটাই নির্ঘুম।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)