ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সমাবেশসহ রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান সংরক্ষণ করে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের সাথে সড়কের নামকরণ করা হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর লাইব্রেরীতে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সঠিক মাপ ও রং এর জাতীয় পতাকা উত্তোলনসহ জাতীয় সংগীত পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টার সময় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তিনবছর মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সুধিজনদের সাথে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা, খেলাধুলাসহ জেলার সকল উন্নয়নে সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত আছি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সুধীজন সভায় প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানাগার প্রতিষ্ঠাসহ গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি বিষয়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল করে তোলা হবে। তাছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চার হাজার আসন বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় পরিক্ষার হল নির্মাণকরা হবে, যা কেন্দ্র ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর উপর চাপ কমাবে। প্রশ্নপত্র সংরক্ষনের স্থানসহ পরিক্ষার হলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। মাদ্রাসা সমুহে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পাঠ্যক্রম ইত্যাদির ডাটাবেজ তৈরি করে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে শিক্ষা ট্রাস্ট তৈরি করাসহ মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে।
এছাড়া আধুনিকায়ন কার্যক্রমের মানোন্নয়ন নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ভূমি অফিস অটোমেশন, ই-মোবাইল কোর্ট বাস্তবায়ন জোরদার করা, জেলা ও উপজেলার সকল কমিটির ই-ব্যবস্থাপনা, সকল লাইসেন্স প্রদান অটোমেশন করা, সরকারি সকল দপ্তরে সিসিটিভি সংযোজন করা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপন করা হবে। এছাড়াও রেকর্ডরুমের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত যে কোন তথ্য সেবা আতিদ্রুত প্রদান করা হবে। ভূমি মেলা আয়োজনসহ ভূমি কর্মকর্তা কর্মচারিদের বার্ষিক প্রণোদনা ভূমি পদক প্রদানসহ ভূমি সেবা সহজিকরণ করা হবে।
তিনি বলেন, খুলনা বিভাগ তথা চুয়াডাঙ্গা জেলা বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষনা করাসহ আইন শৃঙ্খলা ও সুশাসনের ক্ষেত্রে জঙ্গীবাদ ও মাদকদ্রব্য নির্মুলে সচেতনতামূলক সভা সমাবেশ ও প্রচার কার্যক্রম চালানোর সাথে সাথে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সুধিজনদের সাথে মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক আনজুমান আরা, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু, চুয়াডাঙ্গা আদর্শ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম ই¯্রাফিল, জজ কোর্টের বিজ্ঞ পিপি এড. সামসুজোহা, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর বেগম। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, গণমাধ্যমকর্মী, সরকারি/বেসরকারি সেবা সংস্থার প্রতিনিধি ও পেশাজীবি সংগঠনের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
