সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোন কোচিং সেন্টার চলবে না -জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ

আপলোড তারিখঃ 2017-07-22 ইং
সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোন কোচিং সেন্টার চলবে না -জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলার মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোন কোচিং সেন্টার চলবে না নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেছেন কোচিং সেন্টার থেকে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় মূখী করতে হবে। এখন থেকে আর স্কুল-কলেজ চলাকালীন সময়ে তারা যেন কোচিং এ না যায় সেদিকে শিক্ষক ও অভিভাবকদের লক্ষ্য রাখতে হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোন কোচিং সেন্টার চলবে না। সাথে সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং ব্যবসা বন্ধ করে স্ব স্ব বিষয়ের শিক্ষকেরা পাঠদানে দায়িত্বশীল হোন। তাহলেই শিক্ষার্থীদের আর কোচিং করতে হবে না। আর কাউজে কোচিং ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। সংবাদপত্র ও লিফলেট-পোস্টারের মাধ্যমে কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন বন্ধ করুন, তা না হলে ওই কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয় পরিচালনার সুবিধা অসুবিধা নিয়ে জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, মাগরিবের আযানের পর অভিভাবক ব্যাতীত কোন শিক্ষার্থী কোচিং কিবা বাহিরে থাকবে না এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। প্রধান শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষকরা আর ক্লাসে মোবাইল ফোন নিয়ে যাবেন না সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। আর কোন শিক্ষার্থী মোবাইল নিয়ে গেলে তাকে বিদ্যালয় থেকেই বের করে দিন। এ ছাড়া ইভটিজিং ও বখাটেদের উৎপাত রোধে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করুন। সাথে সাথে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা করতে হবে। ১০দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে রিপোর্ট করুন। শতভাগ উপস্থিতির জন্য পুরস্কৃত হবেন। এ ছাড়া বছরে কমপক্ষে দু’দিন অভিভাবক সমাবেশ করতে হবে। পরীক্ষার খাতা অভিভাবককে দেখাতে হবে। মূল্যায়ন নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে আমি নিজে খাতা দেখবো। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্কাউট দল গঠন করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া স্কাউটিং এর জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে যে পরিমাণ টাকা উত্তোলন করা হয় তা স্কাউট ফান্ডে প্রদান করতে হবে। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি বলেন, বাল্য বিবাহ বন্ধে আপনাদেরকেও সচেতন হতে হবে। যখন যেখানে এ ধরণের বাল্য বিয়ের সংবাদ পাবেন তা সরাসরি আমাকে জানাতে পারেন। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি পাঠদানে দায়িত্বশীল হতে হবে। দূর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে। মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস, জঙ্গি, নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্য বিবাহের কূফল নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে আলোচনা করুন। বিদ্যালয়ে গাইড/নোট বই ব্যবহার করা যাবে না। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনগত সকল সহযোগিতা করবে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধে শিক্ষকরাও পুলিশের সহযোগিতায় এগিয়ে আসুন। জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আতাউর রহমান বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে সকল শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরী। শ্রেণী কক্ষে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকগণ পাঠদানে দায়িত্বশীল হলে আর কোন শিক্ষার্থী দূর্বল থাকবে না। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জসিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা, আইসিটি ও রাজস্ব) আব্দুর রাজ্জাক, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা আদর্শ সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এস, এম ই¯্রাফিল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৃণাল কান্তি দে, সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিকাশ কুমার সাহা, জীবননগর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন, দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন, জেলা শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান, সহ-সভাপতি নূর হোসেন, তাইজেল হোসেন, সাইদুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান, জীবননগর শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আকরাম হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইয়াকুব আলী প্রমূখ। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে এদিন বিকাল ৩টায় জেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,  আপনার আশে পাশে এমন অনেক শিশু আছে যারা স্কুলে যায়না। তাদেরকে একটু বুঝিয়ে বিদ্যালয়মুখি করা অপনার আমার নৈতিক দায়িত্ব। ৫মন শ্রেণী পাশ করার পরও ব্যঞ্জনবর্ণ সম্পর্কে ধারনা নেই অনেক শিক্ষার্থীর। বানানের ক্ষেত্রে অনেকটা নাজুক অবস্থা। অনেক ছাত্র ছাত্রীর উচ্চারণগত সমস্যা আছে সেটা আমার থেকে আপনারা ভালো জানেন। স্কুলের শিক্ষকদের সাথে বসবেন এ সকল বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন। এ সময় তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা কম, তারপরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছি। একটা সময় ছিলো বাংলাদেশকে অনেক ছোট ভাবা হতো কিন্তু আজ আমরা সে অবস্থা থেকে উত্তরণ করেছি। এখন অনেক ক্ষেত্রে আমরা প্রথম। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার স্থানে আছি। কোচিং বা টিউশন বানিজ্য না করে একটা করে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে সকলকে নির্দেশনা দেন। এ সকল প্রতিটা বিষয়কে গুরুত্বসহকারে সমাধান করে শিক্ষার গুনগতমান বৃদ্ধি করতে হবে। মাগুরার আড়পাড়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু ব্যতিক্রমধর্মী কাজের চিত্র তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ঘন্টা, জাতীয় পতাকা সঠিক ব্যবহার, মানবতার দেওয়াল স্থাপন, সততা স্টোর নামক কার্যক্রম করা যেতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্র ছাত্রীরা এখান থেকে সৃজনশীল ও মানবিক শিক্ষা গ্রহণ করবে। এসময় ভাল ফল বা মেধাবী ছাত্র ছাত্রী তৈরি করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু আহসান বলেন যাদের সামর্থ আছে তারা ভালো করছে। যাদের সামর্থ নেই তাদের বিষয়টা ভাবার সময় এসেছে। কিভাবে তাদের ভালো করানো যায়। দামুড়হুদা থানা শিক্ষা অফিসার বলেন যে সকল স্কুলে মিড ডে মিল চালু আছে সেখানে উপস্থিতির হার ৭০%। তারপরেও কোনভাবে শতভাগ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সকলে একটু সতর্ক হলে শতভাগের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব। এসময় তিনি আরো বলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ হাজার টিফিনবক্স দেবেন যাতে মিড ডে মিল কার্যক্রমটি আরো সহজ হয়ে যায়। অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট জসিম উদ্্দীনের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর এস.এম ইসরাফিল, প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ চুয়াডাঙ্গা জেলার সরকারী প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)