প্রাথমিকে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই গলদ

আপলোড তারিখঃ 2022-03-14 ইং
প্রাথমিকে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই গলদ ছবির ক্যাপশন:

সমীকরণ প্রতিবেদন:
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার গোড়াতেই বড় ধরনের গলদ ধরা পড়েছে। আর এসব ত্রুটি এড়ানো সম্ভব না হলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই নিশ্চিতভাবে প্রশ্ন উঠবে। বিশেষ করে গত দুই বছর আগে যেভাবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিকে মোট ১৮ হাজার ১৪৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল সেটি ছিল এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ মাত্রায় স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ। কিন্তু এবার যদিও সবচেয়ে বড় সংখ্যার ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ত্রুটি সংশোধন করা না গেলে সুযোগ সন্ধানী একটি অসাধু চক্র অনিয়মের নানা ফাঁক ফোকর খুঁজে খোদ সরকার তথা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফরকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিকে এত বড় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ আগে কখনোই হয়নি। এবার প্রথমে ৩২ হাজার ৫৭৭ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও করোনার কারণে নিয়োগ পরীক্ষা যথাসময়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে আরো বেশ কিছু পদও শূন্য হয়েছে। ফলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আগের এবং বর্তমানের শূন্যপদের বিপরীতে মোট ৪৫ হাজার শিক্ষকই এই পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হবে। যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তুএর পরেও এবার যত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হোক না কেন সেটাও হবে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ। অর্থাৎ যদি ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে শুধু সার্কুলারে উল্লেখ করা ৩২ হাজার ৫৭৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় তারপরেও গত বছরের চেয়ে এবারের শিক্ষক নিয়োগের সংখ্যাও প্রায় দ্বিগুণ হবে।


এ দিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সাথে গতকাল রোববার কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও বেশ কিছু বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সলিউশন জানানো হয়নি। যেমন গত বছর পরীক্ষা শুরুর আগেই কমপক্ষে এক থেকে দেড় মাস সময় ধরেই উত্তরপত্রের নিরাপত্তা কোডযুক্ত ওএমআর শিটের প্রি-স্ক্যানিং করা হয়েছে। এতে পরীক্ষার পরে বাইরের কোনো উত্তরপত্র (আন-অথোরাইজড) মূল উত্তরপত্রের বান্ডেলে ঢুকানো রহিত করা সম্ভব হয়েছে। কেননা স্ক্যানিংয়ের বাইরের কোনো উত্তরপত্র পরে স্ক্যানিংয়ে শনাক্ত বা বাতিল করার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু এবার এখনো সেরকম কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। অথচ পরীক্ষার আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি রয়েছে।
দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে বরাবরের মতো প্রাথমিকের এই নিয়োগ পরীক্ষার কারিগরি বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে থাকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট। বুয়েট তাদের পর্যবেক্ষণের বলেছে এই পরীক্ষাটি শতভাগ নিখুঁত এবং স্বচ্ছ করতে হলে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার আগে তাদের (বুয়েটকে) কম করে হলেও ৪০ দিন সময় দিতে হবে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। কেননা তাড়াহুড়া করে পরীক্ষার আয়োজন করা হলে সেক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না কিংবা নানা ধরনের ত্রুটিরও আশঙ্কা থাকে। এ বছর বুয়েটকেও প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হয়নি।
অপর দিকে যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতার জন্য ব্যবহার করা হয় প্রশ্নের একাধিক সেট তৈরি করে। গতবারের প্রাথমিক নিয়োগ পরীক্ষাতেও প্রশ্নের আটটি সেট করা হয়েছিল। এতে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীই নিরাপদে এবং নিঃসঙ্কোচে উত্তরপত্রে অ্যানসার করে জমা দিতে পারে। পরীক্ষার কোনো ধরনের কারচুপি কিংবা প্রশ্ন ফাঁসেরও কোনো আশঙ্কা থাকে না। এখনো নজির রয়েছে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাতেই অতীতে কোনো এক সময়ে প্রশ্নের নিরাপত্তার জন্যই বিশটি সেট করা হয়েছিল। কিন্তু এবার প্রশ্নের কতটি সেট হবে তা নিয়েও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।


নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছ করার আরেকটি প্রক্রিয়া হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের সিট প্ল্যানিং। সিট প্ল্যানিং যদি রোল, আইডি বা রেজিস্টেশনের অটো পদ্ধতিতে করা হয় তাহলে কোনো পরীক্ষার্থীই তার পছন্দের বা ফেভারের অন্য কোনো পরীক্ষার্থীর সাথে তার সিট একত্রে বা পাশাপাশি পড়বে না। কিন্তু ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সিট প্ল্যান করা হলে যেকোনো র্প্রার্থী তার আবেদনের আইডি অনুযায়ী আগের বা পরের আইডির ব্যক্তির সাথে সিট পড়বে। এতেও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কিন্তু এবার সিট প্ল্যানিং নিয়েও একটি চক্রের দুরভিসন্ধী রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকই। অটো সিট প্ল্যানিংয়ের বাইরে নিজেদের পছন্দের মতো সিট প্ল্যানিং করে একটি দুষ্ট চক্র বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ারও ঘটনাও অতীতে ঘটেছে।


ডিপিইর একাধিক কর্মকর্তা বলছেন এবারের নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র গত বছরের মতো এ বছর সরাসরি বুয়েট ক্যাম্পাসে নিয়ে গিয়ে মূল্যায়ন করা দরকার। এতে কোনো পক্ষই নিয়োগ প্রক্রিয়ার উত্তরপত্রের মূল্যায়নে কোনো ধরনের কারচুপির অভিযোগ তুলতে পারবেন না। আর এতে ডিপিই এবং মন্ত্রণালয়েরও ভাবমর্যাদা সমুন্নত থাকবে। আর যদি উত্তরপত্র পরীক্ষার হল থেকে ডিপিই বা মন্ত্রণালয়ে নেয়া হয় তাহলে কোনো ধরনের কারচুপি না হলেও অন্যদের মনে সন্দেহ বা সংশয়ের সৃষ্টি হলেও হতে পারে। কাজেই এই সুযোগও কাউকে দেয়া ঠিক হবে না।
প্রাথমিকের আসন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন অসঙ্গতির বিষয়ে গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আমিনুল ইসলাম খানের দফতরে গিয়ে তার মতামত জানতে চাওয়া হয়। সচিব আমিনুল ইসলাম এসব বিষয়ে এই প্রতিবেদকের কাছে তার নিজের কোনো মতামত বা বক্তব্য না জানিয়ে বরং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কমিটির সাথে কথা বলে উপরোল্লিখিত বিষয়ের করণীয় বা সমাধান কী তা জানতে অনুরোধ করেন। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো অসঙ্গতি কিংবা কোনো ধরনের অনিয়মের দায় এই মন্ত্রণালয়েল ওপরে বর্তায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো সময় আছে। বড় কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতির আশঙ্কা এখনো নেই বলেও জানান তিনি। অন্য দিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলমের মুঠোফোনে গতকাল সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, এবার পাঁচ ধাপে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে আগামী ৮ এপ্রিল, ১৫ এপ্রিল ২২ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ সংখ্যক পদে নিয়োগের লক্ষ্যে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষা নেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। গত শনিবার অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)