ওমিক্রন বাড়ছে বিদ্যুৎগতিতে

আপলোড তারিখঃ 2021-12-22 ইং
ওমিক্রন বাড়ছে বিদ্যুৎগতিতে ছবির ক্যাপশন:
বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার হার কমেছে। তবে শনাক্ত গতদিনের তুলনায় বেড়েছে। এদিকে বহির্বিশ্বে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্তের হার বিদ্যুৎগতিতে বাড়ছে। করোনার ডেল্টা রূপকে পেছনে ফেলে আমেরিকায় ইতোমধ্যেই সংক্রমণে প্রধান স্থান দখল করে নিয়েছে ওমিক্রন। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে ৩ শতাংশ থেকে এক লাফে ওমিক্রন আক্রান্ত বেড়ে হয়েছে ৭৩ শতাংশ। তবে আমেরিকার ছোট ছোট অংশে ওমিক্রন আক্রান্তের হার আরো বেশি। নিউ জার্সি এবং নিউ ইয়র্কে আক্রান্তদের মধ্যে ৯২ শতাংশ ওমিক্রনের শিকার। অন্য দিকে ওয়াশিংটনে ৯৬ শতাংশ করোনার এই নতুন রূপে আক্রান্ত । এ দিকে ফ্রান্স জার্মানি ইতোমধ্যেই ওমিক্রনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে কঠোর করোনা বিধি ফিরিয়ে এনেছে। নেদারল্যান্ডস বড়দিনের সময় লকডাউন ঘোষণা করেছে। কড়া ব্যবস্থা আরোপের কথা ভাবছে ব্রিটেনও। ইতোমধ্যেই ট্রাফালগার স্কোয়ারে নববর্ষের অনুষ্ঠান বাতিল করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। দেশেও ইতোমধ্যে ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন কয়েকজন। তবে এখনো সেভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। এ ধরন থেকে রক্ষায় ইতোমধ্যে টিকার বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ডাক্তার-নার্সসহ ফ্রন্টলাইনারদের দেয়া হচ্ছে এ টিকা। তবে বর্তমানে মানুষের ফ্রি স্টাইলে চলাচলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। মাস্ক না পরলে এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানলে দেশে করোনাভাইরাসের নতুন এ ধরন বাড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা: দেশে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলায় করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষ ভ্রমণ করছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশ করছে; কিন্তু কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এতে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নভেম্বরের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন বিশ্বে ছড়াচ্ছে বিদ্যুৎগতিতে। বাংলাদেশেও ইতোমধ্যে ওমিক্রমনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশে ইতোমধ্যে ১৫ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সব ধরনের (সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য) জনসমাগম নিরুৎসাহিত করা; পর্যটন স্থান, বিনোদনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমা হল/থিয়েটার হল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে (বিয়ে, বৌভাত, জন্মদিন, পিকনিক পার্টি ইত্যাদি) লোকসমাগম ধারণক্ষমতার অর্ধেকের মধ্যে রাখা এবং রেস্তোরাঁয় ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম আসনে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে সেখানে। আসন্ন বড়দিন আর ইংরেজি নববর্ষের উৎসব ঘিরে ঘরের বাইরে কোনো সভা, সমাবেশ এবং ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন না করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে আয়োজন করার পরামর্শ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওমিক্রন বিশ্বের ৯০টা দেশে ছড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের এ ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়েছে। আমাদের দেশে অনেক মানুষ কক্সাবাজার গেছে, কারো মুখে মাস্ক নেই। রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে, মিটিং মিছিল হচ্ছে; কিন্তু কেউ মাস্ক পরে না। যার কারণে আমরা আশঙ্কা করছি, সংক্রমণ বেড়ে না যায়। আমরা যদি বেসামালভাবে চলি, তাহলে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। সেজন্য জনগণকে আহ্বান করব, যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। নিয়ন্ত্রিতভাবে কাজ করি, ওমিক্রনকে প্রতিরোধ করি। সারা দেশের মানুষ যেন আগের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক এবং সিভিল সার্জনদের চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ওমিক্রন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখনো আমাদের দেশে সেভাবে ওমিক্রন ছড়ায়নি। নতুন এ ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধে যেসব কাজ করতে হবে, সেদিকে আমাদের মনোযোগ বেশি। বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং করার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অ্যান্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থা পর্যন্ত করা হয়েছে। বর্ডারে একই ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব হাসপাতালে রোগী বেশি আছে, সেখানে জিনোম সিকোয়েন্স করা হচ্ছে। ওমিক্রন কারো শরীরে থেকে থাকলে তা শনাক্ত করা যাবে। লকডাউন চাচ্ছি না: ইউরোপের অনেক দেশে লকডাউন জারি করা হলেও সরকার এখন এমন পদক্ষেপে যেতে চাইছে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশে লকডাউন চাচ্ছি না’। সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। দেশে নতুন ভেরিয়েন্ট ওমিক্রন নেই; কিন্তু করোনা তো (অন্য ভ্যারিয়েন্ট) আছে! ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট থেকেও যদি আমরা রক্ষা পেতে চাই, আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ইউরোপের অনেক দেশ লকডাউন দিয়েছে। আমরা আমাদের দেশে লকডাউন চাচ্ছি না। বুস্টার ডোজ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সব জায়গায় বুস্টার ডোজ দিতে হলে আমাদের সুরক্ষা অ্যাপের হালনাগাদের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা জানিয়েছি আইসিটি মন্ত্রণালয়কে, তারা কাজ করছে। এ মাসের শেষের দিকে তারা কাজটা সম্পন্ন করতে পারবে। তারপর আমাদের বুস্টার ডোজের কার্যক্রম পূর্ণ গতি লাভ করবে। তিনি বলেন, এখন যারা বুস্টার ডোজ নেবেন, তাদের জন্য আমরা একটা ব্যবস্থা রেখেছি। ষাটোর্ধ্ব বয়সী এবং সম্মুখ সারির মানুষ ভ্যাকসিন কার্ড নিয়ে এলে আমরা বুস্টার ডোজ দিয়ে দেবো। বিশেষ করে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য এবং গণমাধ্যমের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা তাদের সবাইকে আমরা দেবো। বুস্টার ডোজ কিভাবে দেয়া হবে সে সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যেই এটা আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জানিয়ে দেবো। কখন-কিভাবে বুস্টার ডোজ দেয়া হবে আমি ডিজি অফিসকে জানিয়ে দিয়েছি। তারা জনগণকে অবহিত করবে। এখন যদি কেউ টিকা নিতে চায়, যাদের প্রাপ্য, তারা ভ্যাকসিন কার্ড নিয়ে গেলে টিকা নিতে পারবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা ফাইজারের ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তাদের যেখানে এই ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে সেখানে যেতে হবে। এ ভ্যাকসিন সব জায়গায় দেয়া হচ্ছে না। কারণ, এটি তাপমাত্রা সংবেদনশীল। অন্যান্য জায়গায় রাখার ব্যবস্থা নেই। রাখার ব্যবস্থা যেখানে আছে, সেখানেই দেয়া হচ্ছে। জাহিদ মালেক বলেন, এ পর্যন্ত করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে ৬০ শতাংশ মানুষকে। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৩৫ শতাংশ মানুষ। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ কোভিড নিয়ন্ত্রণে সফলতার উদাহরণ হয়েছে। সব হাসপাতালে এখন অক্সিজেন সাপোর্ট আছে। সংক্রমণ কমে গেছে। এটি ধরে রাখতে হবে। টিকাদানে বাংলাদেশের প্রশংসায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত: করোনা টিকাদানে বাংলাদেশের প্রশংসা করে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেছেন, বাংলাদেশ সাহসিকতা ও সফলতার সাথে করোনা মোকাবেলা করেছে। একই সাথে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এখনো আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। টিকা নিতে হবে, মাস্ক পরিধান ও হাত ধোয়া চালু রাখতে হবে। গতকাল মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের মাঝে চলমান করোনা টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শনকালে আর্ল রবার্ট মিলার এ মন্তব্য করেন। শনাক্ত বেড়েছে, কমেছে মৃত্যু: গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় নতুন শনাক্ত বেড়েছে, তবে কমেছে মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় (২০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে ২১ ডিসেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত) করোনায় শনাক্ত হয়েছেন ২৯১ জন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হন ২৬০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন একজন, গতকাল দুইজনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, নতুন শনাক্ত হওয়া ২৯১ জনকে নিয়ে দেশে সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হলেন ১৫ লাখ ৮১ হাজার ৬৩৪ জন এবং মারা যাওয়া একজনকে নিয়ে মোট মারা গেলেন ২৮ হাজার ৫১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৬৪ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনা থেকে মোট সুস্থ হয়ে উঠলেন ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ২০ হাজার ৭৬১টি, আর পরীক্ষা করা হয়েছে ২০ হাজার ৯০৯টি। দেশে এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এক কোটি ১৩ লাখ ছয় হাজার ৯৩৮টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪১টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৯৭টি। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার এক দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৭৭ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তি পুরুষ জানিয়ে অধিদফতর জানাচ্ছে, তাকে নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৭ হাজার ৯৪৬ জন এবং নারী ১০ হাজার ১০৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। তিনি সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। সরকারি হাসপাতালে মারা যান তিনি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)