এ আর হাসপাতালে সিজারের পর আবার প্রসূতির মৃত্যু!

আপলোড তারিখঃ 2021-12-09 ইং
এ আর হাসপাতালে সিজারের পর আবার প্রসূতির মৃত্যু! ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত এ আর হাসপাতাল নামের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের পর লিপি খাতুন (২৩) নামের এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সিজারের পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতি লিপি খাতুনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। তবে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রাজশাহী নেওয়ার পথে আলমডাঙ্গা পৌঁছালে প্রসূতি লিপি খাতুনের মৃত্যু হয়। এদিকে, নিহত ওই প্রসূতির বিষয়ে জানতে চাইলে এআর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ঘটনাটি অস্বীকার করে। এআর হাসপাতাল থেকে কোনো রোগীকেই গতকাল রেফার্ড করা হয়নি বলেও দাবি করে তারা। নিহত লিপি খাতুন চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার আসমানখালী ইউনিয়নের নান্দবার গ্রামের বন্দর মোড়ের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। এর আগেও এআর হাসপাতালে সিজারের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সেসময় এনিয়ে পত্রপত্রিকায় সংবাদও পরিবেশিত হয়। কিন্তু তারপরেও আজও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়ে-চড়ে বসেনি। সচেতনমহলকে এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। এদিকে, সরেজমিনে ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিতে এআর হাসপাতালে গেলে সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা একজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও সেখানে চিকিৎসক তো দূরের কথা একজন নার্সেরও দেখা পাওয়া যায়নি। তবে কথা হয় এআর হাসপাতালের দুজন পরিচারিকা বা আয়ার সঙ্গে। তাঁরা দুজই বলেন, ‘আমরা সন্ধ্যার পরে হাসপাতালে ডিউটিতে এসেছি। হাসপাতালে সিজারের পর কোনো প্রসূতির মৃত্যু বা কেউ রেফার্ড হয়েছে বলে জানা নেই।’ এআর হাসপাতালে গতকাল বৃহস্পতিবার কতজন রোগীর সিজার করা হয়েছে এবং কোন কোন ডাক্তার সিজার করেছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচারিকা দুজন আগামীকাল (আজ শুক্রবার) হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলেন। এবিষয়ে জানতে চেয়ে এআর হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফি উদ্দিনকে কয়েকবার মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে ডা. রফি উদ্দীনের চাচা শ্বশুর পরিচয় দিয়ে ফিট্টু নামের এক ব্যক্তি প্রতিবেদককে ফোন করেন। তিনি বলেন, ডা. রফি উদ্দিন তাঁকে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার জন্য বলেছেন। রফি উদ্দিন একটি মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজে ও তাঁর নিকটাত্মীয় একজনের দাফনের জন্য ব্যস্ত আছেন বলেও জানান। এসময় ওই প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে ফিট্টু এআর হাসপাতালে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, এআর হাপসাতালে সিজারের পর কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। এমনকি কোনো রোগীকে এআর হাসপাতাল থেকে কোথাও রেফার্ডও করা হয়নি বলে জানান। এসময় তিনি প্রতিবেদককে কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়েছে বলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেন। এমনকি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টাও চালান। তবে অন্য এক সূত্রে জানা যায়, সদর হাপসাতাল চত্বরের একটি বেসরকারি মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্সযোগে দুপুর একটার পর প্রসূতি লিপি খাতুনকে এআর হাসপাতাল থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়। পথের মধ্যে আলমডাঙ্গায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই লিপি খাতুনের মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক রাহেন বলেন, ‘দুপুর ১টার দিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি এআর হাসপাতাল থেকে একটি সিজারের রোগীকে রাজশাহী নিয়ে যেতে হবে। আমি সময় বিলম্ব না করে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এআর হাপসাতালের সামনে পৌঁছায়। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনেরা দ্রুত রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয়। রোগী নিয়ে আলমডাঙ্গায় পৌঁছালে রোগী মারা গেছেন বলে জানতে পারি। এসময় পরিবারের সদস্যরা ওই নারীর লাশ তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে বলে। আমি লাশ নিয়ে আসমানখালিতে নামিয়ে দিয়ে আসি।’ আলমডাঙ্গার গাংনী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত মেম্বার ও নান্দবার গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, ‘আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) দুপুরে এআর হাসপাতালে লিপি খাতুন সিজারিয়ানের মাধ্যমে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু সিজারের পর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাঁকে রাজশাহী রেফার্ড করেন। দুপুরেই একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে পরিবারের সদস্যরা লিপি খাতুনকে নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে এআর হাপসাতাল ত্যাগ করে। তবে পথের মধ্যে আলমডাঙ্গায় পৌঁছালে তাঁর মৃত্যু হয়। সেখান থেকেই অ্যাম্বুলেন্স ঘুরিয়ে লিপি খাতুনর লাশ বাড়িতে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে সাতটার দিকে লিপি খাতুনের লাশের জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)