‘মায়ের পরকীয়ার বলি শিশু শিহাব’

আপলোড তারিখঃ 2021-12-06 ইং
‘মায়ের পরকীয়ার বলি শিশু শিহাব’ ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় মায়ের পরকীয়ার বলি আট বছরের শিশু শিহাব হত্যার মোটিভ ও ক্লু উদ্ধার করেছে ঝিনাইদহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রায় ৬ বছর পর পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সিআইডির হাত ঘুরে ঝিনাইদহ পিবিআই মামলাটির রহস্যের জট খুলতে সক্ষম হয়েছে। সেই সঙ্গে আসামীদের গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সন্নিবেশিত করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক সরদার বাবর আলী ও পরিদর্শক আমির আব্বাস উপস্থিত ছিলেন। পিবিআই সুত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের প্রবাসী তোয়াজ উদ্দীনের শিশু সন্তান শিহাব নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের দুদিন পর ৩০ অক্টোবর শিহাবের লাশ পাওয়া যায় পার্শ্ববর্তী শিবপুর গ্রামের ওসমান আলীর জমিতে। এ ঘটনায় নিহতের মা বিলকিস খাতুন পরকীয়া প্রেমিক জমির উদ্দীন পিন্টুর ইন্ধনে ৬ জনকে আসামী করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ তদন্ত করে চুয়াডাঙ্গা ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সর্বশেষ পুলিশ হেড কোয়াটারের নির্দেশে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করে হত্যার প্রধান আসামী লাল্টুকে বাদ দিয়ে আদালতে নিহতের চাচাতো ভগ্নিপতি ঘাতক পিন্টুকে আসামী করে ক্রটিপূর্ণ ও দায়সারা চার্জশীট প্রদান করে। পরকীয়া প্রেমিকাকে রক্ষা করতে এই চার্জশীটের বিরুদ্ধে বাদী আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন বিলকিস খাতুন। আর এতেই কপাল পোড়ে পিন্টুসহ অন্য আসামীদের। চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ আদালত মামলাটি নতুনভাবে তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ পিবিআইকে নির্দেশ দেন। ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের এসআই তহিদুল ইসলাম মামলাটির তদন্তভার নিয়ে হত্যার মোটিভ ও ক্লু উদ্ধারের পর প্রধান আসামী ও তার সহায়তাকারীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। দায়-স্বীকার করে আসামী লাল্টু ও নয়ন আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন শিহাব বাড়ির পাশে ইমরানের দোকানে মিষ্টি কিনতে যায়। ফেরার পথে কিশোর আসামী নয়ন শিহাবকে তার চাচাতো ভগ্নিপতি জমির উদ্দীন পিন্টুর কাছে নিয়ে যায়। সাবেক চরমপন্থী ক্যাডার পিণ্টু নয়নকে ৫০০ টাকা দিয়ে শিহাবের বিষয়ে কাউকে কিছু না জানাতে শাসিয়ে দেয়। পিণ্টুর ঘরে শিহাবকে আটকে রেখে চক্রটি গ্রামে নিখোঁজ মাইকিং করে। কুতুবপুর গ্রামের শ্রী অসিত কুমারের ভ্যানযোগে কলম ও শাহাবুদ্দীন এই প্রচার কাজে অংশ নেয়। পরিকল্পনা মাফিক রাতে আসামী লাল্টু শিশু শিহাবের মালয়েশিয়া প্রবাসী পিতা তোয়াজ উদ্দীনের কাছে মুক্তপণ দাবী করার পরিকল্পনা নেয়। এসব দেখে শিশু শিহাব কান্নাকাটি শুরু করলে লাল্টু শিহাবের কানে জোরে থাপ্পড় মারে। এতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে শিহাব। চাচাতো ভগ্নিপতি পিণ্টুর ঘরের মধ্যে শিশু শিহাবকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর অসিতের ভ্যানযোগে লাশ শিবপুর গ্রামের মাঠে ফেলে আসে। লাশ টানার কাজে ব্যবহৃত ভ্যানটিও পিবিআই উদ্ধার করেছে। ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের এসআই তহিদুল ইসলাম জানান, মূলত মায়ের সঙ্গে পিণ্টুর অনৈতিক কাজ দেখে ফেলা ও পরবর্তীতে শিশু শিহাবের প্রবাসী পিতার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করার জন্যই অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটায়। এই মামলার মূল আসামী লাল্টুকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশীট দেয়া হয়েছিল। পিবিআইয়ের তদন্তে এজাহারের বাইরে আরও তিনজন আসামীরে সন্ধান মেলে। এসআই তহিদুল জানান, মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর প্রধান আসামী শিবপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে লাল্টুকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমোশপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক কুতুবপুর গ্রাম থেকে জিয়ারত আলীর ছেলে জমির উদ্দীন পিণ্টু ও ১৩ জুন মথুর দাসের ছেলে অসিত দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় ৬ বছর পর শিশু শিহাব হত্যার প্রকৃত ঘাতকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারা ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের আরেকটি সাফল্য বলেও তিনি দাবী করেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)