পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে চার দিন পর হলো মামলা

আপলোড তারিখঃ 2021-12-05 ইং
পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে চার দিন পর হলো মামলা ছবির ক্যাপশন:
দিনটি ছিল ২৮ নভেম্বর। কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত বিখ্যাত আটচালা ঘর যেখানে অবস্থিত, ঘটনা সেখানকার সংযোগ সড়ক থেকেই শুরু। বিখ্যাত এই আটচালা ঘরটি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা মিশন পাড়ায়। ঘটনাটি যে মেয়েটিকে ঘিরে, সে দশম শ্রেণির একজন ছাত্রী। বাবা দিনমজুর। মেয়েটি নিয়মিত স্কুলে যায় এবং সংসারের খুটিনাটি কাজ করে। বেশ হাসি-খুশিতে কেটে যায় তাদের দিন। হঠাৎ তাদের সে হাসিতে ছেদ পড়ে। ছাত্রীটির বাবার অভিযোগ, একই উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাঘাডাঙ্গার মেহেদী হাসান মিলন ও সহযোগী তিতাস লাহিড়ী তাঁর মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেম নিবেদন করে আসছিলেন মেহেদী হাসান মিলন। স্কুলছাত্রী প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিতেন প্রায়। বিষয়টি বাবা জানতে পেরে মিলনকে বিরক্ত ও উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করেন। এরপর থেকে আরও বেশি উত্ত্যক্ত করতেন তিনি। ২৮ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে স্কুলছাত্রী পাশ্ববর্তী আপন বড় চাচার বাড়ি যাচ্ছিল। এসময় মেহেদী হাসান মিলন ও তিতাস লাহিড়ী ছাত্রীটিকে চেতনানাশক স্প্রে দিয়ে অচেতন করে মোটরসাইকেলযোগে অপহরণ করে। পরে এলাকার মতিয়ার ইটভাটার পাশে একটি বাঁশবাগানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে স্কুলছাত্রীর জ্ঞান ফিরলে চিৎকার দিলে তারা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। ওই রাতেই এলাকাবাসীর পরামর্শে ছাত্রীটির বাবা দামুড়হুদা থানার ওসিকে ফোন করেন। ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনাটি শুনে তিনি দেখবেন বলে জানান। রাত পার হয়, ক্রমশই খ্রিস্টান পল্লী ছাপিয়ে হাটে-বাজারেও এ খবর ছড়াতে থাকে। স্থানীয় সাংবাদিকদের কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে ওসিকে ফোন দেন। ওসি বিষয়টি শুনেছেন এবং ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান। ছাত্রীটির বাবা একপর্যায়ে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির আইসিকেও অবহিত করেন। তিনিও ওসির নির্দেশের কথা বলেন। এদিকে, অপরাধের আঙুল যাদের দিকে, তারাও ইতঃমধ্যে বিষয়টি নিয়ে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। চলে সালিশের নামে একাধিক পরামর্শ। সর্বসম্মুক্ষে, উৎসুক প্রতিবেশীদের ভিড়ে, অভিভাবকদের প্রশ্নবাণে, উপুর্যুপরি নেতা এবং কথিত সাংবাদিকদের জেরায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের যন্ত্রণায়-গ্লানিই ফিরে ফিরে আসে ছাত্রীটির কাছে। তার মনের ক্ষত নিরাময়ের মতো কোনো করুণাধারা সমাজ বর্ষণ করে না, সেই ক্ষতস্থান থেকে নিয়ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। ঘটনার বিষয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করলেও মামলা নিতে বিলম্ব হলেও অবশেষে চার দিন পরে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামের হস্তক্ষেপে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ মামলাটি গ্রহণ করে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)