ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীক ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (বর্তমান চেয়ারম্যান) স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যারাত সাড়ে ৭টার দিকে খাদিমপুর ইউনিয়নের পাঁচকমলাপুর গ্রামের মালিথাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় নৌকা প্রতীকের সর্মথকদের মধ্যে দুজন ও আনারস প্রতীকের একজনসহ মোট তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। আহতরা হলেন- নৌকা প্রতীকের সর্মথক পাঁচকমলাপুর গ্রামের মাঝেরপাড়ার জুড়ান বিশ্বাসের ছেলে ঠাণ্ডু বিশ্বাস (৫৫) ও একই এলাকার আফসার শেখের ছেলে খাইরুল ইসলাম (৫৫) এবং স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের সর্মথক সুজন হোসেন।
সদর হাপসাতালে চিকিৎসাধীন আহত ঠাণ্ডু বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা কয়েকজন ভোটের পোলিং এজেন্টের কাগজপত্র ও ব্যাজ নিয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে যাচ্ছিলাম। পথের মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল হালিম মণ্ডলের বাড়ির নিকটে পৌঁছালে তাঁর কর্মী-সর্মথকদের মধ্যে রাজিব (৩০), সুজন (২৮), সহেলসহ (৩২) বেশ কয়েকজন আমাদের পথরোধ করে। তারা আমাদের ব্যাগের মধ্যে কী আছে, তা জানতে চাই। আমি তাদেরকে জানায় ব্যাগের মধ্যে ভোটের পোলিং এজেন্টের কাগজপত্র ও ব্যাজ আছে বলে জানায়। এসময় তারা ব্যাগ নিয়ে টানাটানির একপর্যায়ে বিদেশি টর্চ লাইট দিয়ে আমার হাতে আঘাত করে। ঠেকাতে গেলে আমাদের মধ্যে থেকে আরও একজন আহত হয়।’
এ বিষয়ে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মুজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস বলেন, ‘ভোটের মাঠে কাজের জন্য আমার কর্মী-সর্মথক কয়েকজন ভোটের পোলিং এজেন্টের কাগজপত্র ও ব্যাজ ব্যাগে করে নিয়ে আসছিল। এসময় আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল হালিম মণ্ডলের সমর্থকরা তাদের পথরোধ করে ও হামলা চালায়। এ ঘটনায় ঠান্ডু বিশ্বাসের একটি হাত ভেঙে যাওয়াসহ খাইরুল আহত হয়েছে। পরে তাঁদেরকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ঘটনার পরেই আমি আলমডাঙ্গা থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছি।’
বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল হালিম মণ্ডল বলেন, ‘রাতে আমার কর্মী-সর্মথকদের মধ্যে কয়েকজন মালিথাপাড়ায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। এসময় নৌকা প্রতীকের কয়েকজন কর্মী সাইকেলের পেছনে করে একটি বস্তা নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় আমার কর্মী সুজন বস্তার মধ্যে কী আছে জিজ্ঞাসা করলে নৌকার সমর্থকরা তর্কাতর্কি করে। একপর্যায়ে তারা আমার কর্মীদের মধ্যে সুজনকে বেধড়ক মারধর করে। বিষয়টি জানতে পেরেই আমি মৌখিকভাবে আলমডাঙ্গায় অভিযোগ জানিয়েছি ও আহত সুজনকে গ্রাম থেকেই প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।’
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যারাতে খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নৌকা প্রতীকের কর্মীরা সাইকেলের পিছনে একটি বস্তায় ভরে পোলিং এজেন্টদের কাগজপত্র নিয়ে যাচ্ছিল। পথের মধ্যে স্বতন্ত্র আনারস প্রতীক প্রার্থীর সমর্থকেরা বস্তায় কী আছে জানতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হলে নৌকা প্রতীকের একজনের হাত ভেঙে যায়। তবে এ ঘটনায় আনারস প্রতীক প্রার্থীর কর্মীদের মারধর করেছে কিনা সে সম্পর্কে জানতে পারিনি। এঘটনায় উভয় পক্ষ মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করছে। বিষয়টির তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
