নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমার কোনো কর্মী হামলা বা ভাঙচুর করেনি- নৌকার প্রার্থী
আলমডাঙ্গার হারদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী (স্বতন্ত্র) আশিকুজ্জামান ওল্টুর কর্মী সর্মথকদের ওপর হামলা ও তাদের ৩০টির বেশি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আশিকুজ্জামান ওল্টু তাঁর সর্মথকদের মধ্যে ১৪ জনের অধিক আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের বটতলার মোড়ে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী আশিকুজ্জামান ওল্টু অভিযোগ করে বলেন, ‘আজ (গতকাল) সন্ধ্যায় হারদী কৃষি ক্লাবে আমার কর্মী-সর্মকদের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করেছিলাম। সন্ধ্যার পর আমার সমর্থকরা আলমসাধু, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনযোগে কৃষি ক্লাবের দিকে আসছিল। পথের মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান ও এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরুল ইসলামের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আমার কর্মী-সমর্থকরা হামলার শিকার হন।
এসময় আমার কর্মী-সর্মথকদের মধ্যে ১৪ জনের বেশি আহত হয়েছে। ৩০টির অধিক আলমসাধু ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানও ভাঙচুর করেছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমি আহত ১৪ জনের নাম পেয়েছি। তারা হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের প্রাগপুর গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে তোফাজ্জেল আলী (৭০), একই এলাকার সানোয়ারের ছেলে মাসুম (৩৫) ও কছের আলীর ছেলে আনছার আলী (৫০), একই ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর গ্রামের ইসরাফিল হোসেনের ছেলে আশরাফুল হোসেন (২৫), একই গ্রামের তাহাজ আলীর ছেলে বেলে (৩০), কাবের আলীর ছেলে শাহাবুল হোসেন (৩২), মফি ওরফে মফের আলীর ছেলে মেগা (৩৫), রফিকুলের ছেলে ইকবাল হোসেন (৩০), আকা আলীর ছেলে মণ্টু মিয়া (৪০), উজ্জ্বল হোসেনের ছেলে বাপ্পি (২০), ফরমান আলীর ছেলে আরিফ (৩৫), মৃত সাবদাল মণ্ডলের ছেলে শুকুর মণ্ডল (৬৫), আছের আলীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (৫০) ও আব্দুল হাকিমের ছেলে সুমন (২২)। ঘটনা জানার পরেই আমি আলমডাঙ্গা থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ করেছি।
এই ভাঙচুর ও হামলার বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যার পরে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোটরসাইকেল, আলমসাধু নিয়ে নির্বাচনী বিধি ভেঙে শোডাউন করেছে। তবে আমার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে যে হামলার বা ভাঙচুরের অভিযোগ করছেন, তিনি তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার কোনো কর্মী-সমর্থক কারও ওপর হামলা বা ভাঙচুর করেনি। তারা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধিয়ে এ ঘটনা ঘটাতে পারে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হারদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পথসভাকে কেন্দ্র করে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই। এ সময় কেউ হতাহত হয়নি। কোনো গাড়ি বা অফিস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেনি। রোববার (২৮ নভেম্বর) আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’