ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার গুলশানপাড়ায় আবারও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে এক সাংবাদিকের বাড়ির সামনে থেকে দিন-দুপুরে এক স্কুল শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। ওই ছিনতাইকারী এই স্কুল শিক্ষিকার দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকাসহ তার ভ্যানিটি ব্যাগটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয়রা ধাওয়া করলে ছিনতাইকারী ধরা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় ওই স্কুল শিক্ষিকা চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ছিনতাই ঘটনার সত্যতা শিকার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ জানায় ছিনতাইকারীকে আটকে অভিযান চলছে।
জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার হাজি মো. রিয়াজুল আলম তালুকদারের মেয়ে ও দামুড়হুদা শহরের স্থানীয় একটি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষিকা নাজমা খাতুন একজন রোগীকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে চুয়াডাঙ্গার হাসপাতাল মোড়ে আসেন। এরপর তিনি ওই রোগীকে ডাক্তার দেখিয়ে হাসপাতাল সংলগ্ন গুলশানপাড়ায় তার দুলাভাইয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে দিন-দুপুরে স্থানীয় এক সাংবাদিকের বাড়ির সামনের গলির মধ্যে ছিনতাইয়ের শিকার হোন। এ ঘটনার পরপরই সিসি ক্যামেরা থেকে ছিনতাইকারী সনাক্ত হলেও তাকে এখন পর্যন্ত আটক করতে পারেনি পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওই ছিনতাইকারী একটি পাখিভ্যানযোগে পালিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী স্কুলশিক্ষিকা নাজমা খাতুন জানান, ‘আমি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগী নিয়ে এসেছিলাম। পরে আমার ওই রোগীকে ডাক্তার দেখিয়ে হাসপাতালের পাশেই অবস্থিত আমার বড় আপা-দুলাভাইয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পথিমধ্যে এক ছিনতাইকারী আমার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এসময় আমি তার পিছন পিছন দৌঁড়েও তাকে ধরতে পারিনি। আমার ভ্যানিটি ব্যাগে একটি স্মার্টফোন, একটি বাটন-ফোন ও প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজারের মতো টাকা রয়েছে। আমি থানায় অভিযোগ করেছি।’
স্থানীয় এক সাংবাদিক জানান, ‘আমি আমার বাড়ির দ্বিতীয়তলা থেকে এক নারীর চিল্লাচিল্লির আওয়াজে দ্রুত বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসি। এসময় ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানায়।’
ছিনতাই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘এখনো অভিযোগ পায়নি। তারপরও ঘটনা শুনেছি, ইতঃমধ্যে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।’
এদিকে, দিন-দুপুরে ছিনতাই ঘটনার পর অত্র এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ গত দুদিন আগে গভীর রাতে একই এলাকায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে ল্যাপটপ ও নগদ টাকা লুট করে ছিনতাইকারীরা। আবার এর বেশ কিছুদিন আগে একইপাড়ায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে। তাই একের পর এক ঘটনার কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ভয় বিরাজ করছে।
