১০ মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৫৮ প্রাণহানি

আপলোড তারিখঃ 2021-11-18 ইং
১০ মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৫৮ প্রাণহানি ছবির ক্যাপশন:
সড়কে বাড়ছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিং, বারবার লেন পরিবর্তন, ট্রাফিক আইন না মানা ও চলন্ত অবস্থায় মুঠোফোনে কথা বলার কারণে প্রতি বছর মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও বাড়ছে। এ বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে সড়কে ১ হাজার ৬৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৭৫৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন ১ হাজার ১২৩ জন। যা মোট মৃত্যুর ৭৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত হয়েছেন ১৫১ জন, যা মোট নিহতের ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৩২৭ জনের বয়স ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়সি। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গবেষকরা বলেছেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বাড়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হেলমেট ব্যবহার না করা অথবা নিম্নমানের হেলমেট ব্যবহার। গতকাল বুধবার সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সংবাদ সম্মেলনে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেন। সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজপোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বলে সংস্থাটি জানায়। জানা যায়, গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে দেশে ১ হাজার ১১টি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ২৬ জন নিহত হয়। এ হিসাবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ আর প্রাণহানি বেড়েছে ৭১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্য যানবাহনের সঙ্গে মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ৩৪৯টি, মোটর সাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৮৩টি, মোটর সাইকেলে অন্য যানবাহনের চাপা ও ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৭১৫টি এবং অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬টি। দুর্ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ৬৭২টি দুর্ঘটনার জন্য মোটর সাইকেল চালক এককভাবে দায়ী। এছাড়া বাস চালক দায়ী ১৭৮টি দুর্ঘটনায়, ট্রাক চালক দায়ী ৪৪৩টি দুর্ঘটনায়, কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৫৮টি। পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫৭৭টি জাতীয় মহাসড়কে, ৫২৮টি আঞ্চলিক সড়কে, ২৯১টি গ্রামীণ সড়কে এবং ২৫৭টি শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ২৭৪৯টি। এর মধ্যে মোটর সাইকেল ১৭১৯টি, বাস ১৯৪টি, ট্রাক ৪৮১টি, কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ১৭২টি, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার ৫৬টি, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-অটোরিকশা-অটোভ্যান-নসিমন-ভটভটি-টমটম) ১১৩টি, এবং প্যাডেল চালিত রিকশা ও বাইসাইকেল ১৪টি। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, কিশোর-যুবকদের বেপরোয়াভাবে মোটর সাইকেল চালানো, অতি উচ্চগতি মোটর সাইকেল ক্রয় এবং ব্যবহারে সহজলভ্যতা ও বাধাহীন সংস্কৃতি, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতাসহ একাধিক কারণে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, মোটর সাইকেল চালকদের অধিকাংশই কিশোর-যুবক। তারা বেপরোয়াভাবে মোটর সাইকেল চালিয়ে নিজেরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এবং অন্যদেরও করছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৫ লাখ মোটর সাইকেল চলছে। রাজধানীতেই চলছে ১২ লাখের বেশি। মোটর সাইকেল ৪ চাকার যানবাহনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য গণপরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য করে মোটর সাইকেলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)