ছবির ক্যাপশন:
সবার কাছে তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। এর এটা সবাইকে বিশ্বাস করাতে তিনি কখনো পুলিশের ইউনিফর্ম গায়ে লাগিয়ে, আবার কখনো বন্দুক হাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবিও শেয়ার করতেন। আর নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা প্রমাণে ওয়াকিটকি হাতে নিয়ে ছবিও তার ফেসবুক আইডিতে পাওয়া যায়। চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের গাইদঘাট গ্রামের মিল্লান হোসেনের ছেলে এই প্রতারকের নাম তৌহিদ হোসেন পুলিশের সাথেও করতেন প্রতারণা। অনেক পুলিশ সদস্যদের কাছে তিনি নিজেকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নিতেন নানা সুযোগ-সুবিধা। কেউবা আবার তাকে চেনেন এনএসআই-এর কর্মকর্তা হিসেবেও।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক নারীর সঙ্গে প্রতারণা করার জন্য নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা প্রমাণে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি করতে থাকে। তার এই ঘোরাঘুরিতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন পিপিএম (বার)-এর মনে খটকা লাগে, তিনি এই প্রতারককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে বেরিয়ে আসে প্রতারণার নানা তথ্য। পরে এই প্রতারককে আটক করে পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জানান, ‘তৌহিদ একজন মহাপ্রতারক। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ হিসেবেই পরিচিত। আবার পুলিশের কাছে পরিচিত দুদক কিংবা এনএসআই কর্মচারী হিসেবে। এগুলো প্রমাণে তিনি আবার সেসব বাহিনীর পোশাক পরে ছবি তুলে ফেসবুকেও শেয়ার করেন। এরকম বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য সেজে মূলত টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় তার মূল কাজ। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আমরা ইতঃমধ্যে পেয়েছি। তাকে আটক করেছি, তার বিষয়ে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতঃমধ্যে প্রতারক তৌহিদের বিরুদ্ধে এক নারী প্রতারণা অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছে।’
