সভাপতির নিয়ন্ত্রণে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা

আপলোড তারিখঃ 2021-11-12 ইং
সভাপতির নিয়ন্ত্রণে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ছবির ক্যাপশন:
এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতনের সরকারি অংশের নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা কমিটির সভাপতির হাতে। কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্ব, কমিটি না থাকাসহ এমন নানা কারণেও আটকে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা। ফলে এ সময়ে সরকারি এ বেতনের ওপর সংসার নির্বাহ করা শিক্ষকদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনের সরকারি অংশের জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। থেকে তৈরি করা শিক্ষকদের নামের তালিকাযুক্ত কাগজে স্বাক্ষর করেন প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষ এবং গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। তারপর তা ব্যাংকে পাঠাতে হয়। এ তালিকা ধরেই ব্যাংক থেকে টাকা তোলার সুযোগ পান শিক্ষকরা। কিন্তু কোনো কারণে সভাপতি বা অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষক ঐ কাগজে স্বাক্ষর না করেন, তাহলে বেতন তুলতে পারেন না শিক্ষকরা। বেতন তুলতে না পারা এমন শিক্ষকদের অভিযোগ আসছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে। চাঁদপুরের ফতেহপুর ওল্ড স্কিম দাখিল মাদ্রাসার সাবেক এক সভাপতি মাদ্রাসার নিকটস্থ নিজ বাসায় শিক্ষকদের হাজিরা খাতা রাখতেন। শিক্ষকদের মাদ্রাসায় যাওয়ার আগে ঐ সভাপতির বাসায় গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতে হতো। যে শিক্ষক তার বাসায় গিয়ে হাজিরা দিতেন না সেই শিক্ষক বেতন পেতেন না। এমনকি এ কারণে তিনি মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্টের বেতনও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। চাঁদপুরের ফতেহপুর ওল্ডা দাখিল মাদ্রাসার কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিলে স্বাক্ষর করার কথা থাকলেও তিনি করেননি। ফলে আট মাস বেতন পাননি শিক্ষকরা। অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলেও বকেয়া আট মাস বেতনের জন্য শিক্ষকরা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদনও করেছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এনামুল হক হাওলাদার বলেন, উপজেলা পর্যায়ের কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি না থাকলে অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত/অ্যাডহক কমিটি না থাকলে অন্তর্র্বতীকালীন উপজেলার ক্ষেত্রে নির্বাহী অফিসার এবং আর 'জেলার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরের বিধান রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসকরা শিক্ষামন্ত্রণালয়/অধিদপ্তরের পৃথক আদেশ ছাড়া এই স্বাক্ষরে রাজি হন না। শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কমিটি না থাকলে অন্তত অ্যাডহক কমিটি থাকবে। তবে মামলা-মোকদ্দমা, কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনো জটিলতার কারণে যথাসময়ে কমিটির নির্বাচন হয় না বা অ্যাডহক কমিটিও গঠন করা যায় না। কোথাও কোথাও প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সভাপতির মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকে। কোথাও কোথাও সভাপতি এবং কমিটির সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকে। এ কারণে বেতন নিয়ে হয়রানির শিকার হন সাধারণ শিক্ষকরা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলা থাকা বা কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকার কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা জেলা প্রশাসকরাও স্বাক্ষর করেন না। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেন। এই আদেশ পেতে সময় ক্ষেপণ হয় অন্তত তিন-চার মাস। এ সময়ে শিক্ষকরা বেতন পান না। কখনো এক বছরও বেতন পান না এমন অভিযোগ রয়েছে। আবার ব্যতিক্রমও আছে। কোথাও কোথাও অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষক গভর্নিং বডির অন্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে সভাপতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। বেতন না পাওয়ার ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষকও দায়ী হন। ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার কমিটি অনুমোদন দেয় আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষকরা কমিটি নিয়ে সমস্যা তুলে ধরে সমস্যা সমাধানের জন্য আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। ইএফটিতে সমাধান : বেসরকারি শিক্ষকদের ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। ইতিমধ্যে ৯ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে প্রস্তুত থাকতে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বাস্তবায়ন হলে প্রতি মাসে শিক্ষকদের বেতনের টাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে। এজন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা গভর্নিং বডির সভাপতির স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না। শিক্ষকরা বলছেন, সংবাদটি বেশ আনন্দের। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু বলেন, ইএফটি একটি ভালো পদ্ধতি। এর মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধার টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই টাকা পেতে প্রতিষ্ঠান প্রধান অথবা গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে প্রত্যয়নের জন্য ধরনা দিতে হবে না। অথচ আগে সভাপতির স্বাক্ষর লাগত । এক্ষেত্রে সভাপতি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাছে ঘুষ দাবি করত।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)