ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় প্রকাশ্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসএসসি পরীক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান তন্ময় ওরফে তপুকে কুপিয়ে হত্যা মামলার অন্যতম এজহারনামীয় আসামি ইমদাদুল হক আকাশ আত্মসর্মপণ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মানিক দাসের আদালতে আকাশ আত্মসমর্পণ করেন।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গ্যাংস্টার আকাশের রয়েছে সিরিজ অপরাধের ইতিহাস। ২০১৬ সালে ১৩ জুলাই মুদি ব্যবসায়ী গোলাম হত্যা, এরপর এপেক্স ইটভাটায় ডাকাতি-ধর্ষণ, বুজরুকগড়গড়ির প্রিন্সকে হত্যা চেষ্টা, শান্তিপাড়ার চারতলা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার, পুরাতন জেলখানা মোড়ের দোকানি লাবন ও অ্যাড. শফিকে হত্যাচেষ্টাসহ বহু মামলার আসামী এই আকাশ।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন (পিপিএম বার) জানান, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী তপুকে কুপিয়ে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি আকাশ। সকালে (গতকাল) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মানিক দাসের আদালতে সে আত্মসমর্পণ করেছে। বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আকাশের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। রিমান্ড আবেদনের শুনানীর রায় পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত রোববার (৭ নভেম্বর) প্রেম নিয়ে বিরোধের জেরে এসএসসি পরীক্ষার্থী তপুকে বিদায় অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষের সামনে কয়েকজন যুবক তপুকে প্রকাশ্যে এলাপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকেরা তপুকে গুরুতর জখম অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিন রাতেই নিহত তপুর বড় ভাই আলিহিম মাসুদ চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় উপস্থিত হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখসহ ২/৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৪, তারিখ: ৮/১১/২০২১। মামলার পরদিন সকালেই পুলিশ মামলার এজাহারনামীয় আসামী চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রুহুল আমীনের ছেলে সুমনকে (২৮) গ্রেপ্তার করে। মামলার অন্য আসামীরা পলাতক থাকলেও তপু হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আকাশ গতকাল চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মানিক দাসের আদালতে আত্মসমর্পণ করে।
