ছবির ক্যাপশন:
৪৮ ঘণ্টা পার হলেও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জমির মোহাম্মদ হাসিবুস সাত্তারকে মারপিট করা মামলার আসামি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক হারুন ও তাঁর সহযোগী নাসিরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ নিয়ে ঝিনাইদহের চিকিৎসকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা রয়েছেন আতঙ্কে। এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ ঝিনাইদহ শাখা মহেশপুরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। পুলিশ সুপার আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম।
জানা গেছে, গত রোববার (৭ নভেম্বর) বেলা তিনটার দিকে মহেশপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন জ্বর আক্রান্ত হয়ে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আসেন। টিকেট কাউন্টার বন্ধ ও চিকিৎসকদের কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার বিষয়টি জানানোর পর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জমির মোহাম্মদ হাসিবুস সাত্তারের সঙ্গে তার বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে কিল, ঘুষি ও চড় থাপ্পড় মেরে আহত করেন সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক হারুন। হাসপাতালের স্টাফরা এ সময় হারুন ও নাসিরকে একটি কক্ষে আটকে ফেলেন। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে পরে তারা ছাড়া পান।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলাব্যাপী চিকিৎসকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন বিকেলেই মহেশপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন ও তাঁর সহযোগী নাসিরের বিরুদ্ধে মহেশপর থানায় চাঁদাবাজী ও মারধরের মামলা হয়। কিন্তু ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনো আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি।
ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জানান, ‘পুলিশ সুপার আমাদের কাছ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার না হলে চিকিৎসকরা নতুন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’
বিষয়টি নিয়ে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ‘আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি দুই আসামি গ্রেপ্তারের জন্য, কিন্তু তারা এলাকায় নেই। প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও ওসি জানান।’
