ছবির ক্যাপশন:
‘আমি এসিল্যান্ড অফিস থেকে বলছি। আপনার হোটেলের নামের তালিকা করা হচ্ছে, র্যাব-পুলিশ নিয়ে মোবাইল কোর্ট করা হবে। মোবাইল কোর্ট ঠেকাতে ও লিস্ট থেকে নাম কাটাতে ৭০ হাজার টাকা দিতে হবে। এই টাকা দিলে আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। আর টাকা না দিলে আপনার হোটেলে দুই লাখ টাকা জরিমানাসহ প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া হবে।’ গত শনিবার বিকেলে ০১৯১২-৭৩০৫৬৮ মোবাইল নম্বর থেকে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি এসিল্যান্ড পরিচয়ে ওই কথাগুলি বলে কালীগঞ্জে হোটেল রেস্তোরাঁ, বেকারিসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করেছে। এ ঘটনায় পরদিন সকালে ভুক্তভোগী শহরের থ্রি-স্টার হোটেলের মালিক নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
ভুক্তভোগী শহরের থ্রি-স্টার হোটেলের মালিক সাজ্জাত হোসেন জানান, গত শনিবার বিকেল ৪.১৮ মিনিটের সময় ০১৯১২-৭৩০৫৬৮ নম্বর মোবাইল থেকে হোটেল মালিক সাজ্জাদের ০১৭৩৪-৭২১৯৯৪ নম্বর মোবাইলে একটি কল আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে এসিল্যান্ড অফিসের লোক পরিচয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট অভিযান বন্ধ করতে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং এখনি এসে টাকাটি নিবেন বলেও জানায়। এরপর বিষয়টি তিনি তাৎক্ষনিক আশপাশের লোকজনকে অবহিত করায় স্থানীয়রা জড়ো হওয়ায় প্রতারক চক্রটি আর আসেনি। তাঁর ভাষ্য, কোনো প্রতারক চক্র প্রতারণার মাধ্যমেই এই চাঁদাবাজির চেষ্টা চালাতে পারে। তিনি আরও জানান, তার মতো শহরের ঢাকা সুইট ও মুসলিম বেকারিসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির চেষ্টা করে প্রতারক চক্রটি।
কালীগঞ্জ থানার এসআই সুজাত হোসেন জানান, চাঁদাবাজির চেষ্টার বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি হয়েছে। কোনো প্রতারক চক্র এহেন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। তিনি দ্রুত বিষয়টি উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
কালীগঞ্জ এসিল্যান্ড অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভূপালী সরকার জানান, হোটেলে চাঁদাবাজি চেষ্টার কথাটি তিনি শুনেছেন। কোনো প্রতারক চক্র তার অফিসের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজী করার চেষ্টা করতে পারে। তিনি ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান।
