হঠাৎ রণক্ষেত্র নয়াপল্টন

আপলোড তারিখঃ 2021-10-27 ইং
হঠাৎ রণক্ষেত্র নয়াপল্টন ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন: পুলিশের বাধায় গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ মিছিল করতে পারেনি বিএনপি। পরে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে দলটি। সভা শেষ হওয়ার পরপরই বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ বেধড়ক লাঠিপেটা ও শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব অভিমুখে সম্প্রীতি শোভাযাত্রা হওয়ার কথা থাকলেও সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ফলে অস্থায়ী মঞ্চে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব। বেলা ১১টায় শুরু হওয়া সমাবেশ শেষ হয় ১১টা ২৮ মিনিটে। ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে র্যালিটি সমাবেশে পরিণত হয়। নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফ্যাস্টুন নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই দেশে সরকার পরিবর্তন এখন জনগণের দাবি। আওয়ামী লীগের আর ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। তারা কোনো সমস্যারই সমাধান করতে পারেনি। তারা আজকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরি করে, মানুষের অধিকার ব্যাহত ও জনমানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। তাই বলবÑ অবিলম্বে পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় গ্রহণযোগ্য নতুন নির্বাচন দিন, যাতে বাই ভোট দিতে পারে, ভোটের মাধ্যমে তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। তিনি বলেন, সরকার যে পরিকল্পিতভাবে সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে তার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ র‌্যালি করে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত যেতে আমরা চিঠিও দিয়েছিলাম আগে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সকাল থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের এখানে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা এখন সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করছি। অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। পাশাপাশি প্রতিকূলতা এড়িয়ে যারা সভায় উপস্থিত ছিলেন তাদেরকে ধন্যবাদ এবং নেতাকর্মীদের শান্ত থেকে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর কোনো আঘাত এলে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে একটা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরির জন্য সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হিন্দু, মুসলমানের মধ্যকার সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখন হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপরে তারা আঘাত হেনেছে। তাদের লক্ষ্য একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা। ২০০৯ সাল থেকে তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ধ্বংস এবং নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করেছে। মিডিয়াকে তারা অত্যাচার-নির্যাতনের মাধ্যমে দমন করে রাখতে চায়। আমাদেরকে কোনো গণতান্ত্রিক স্পেস দেয় না। একটা মিছিল করার জায়গা দেয় না। মানুষের অধিকারগুলো দমন করার জন্য তারা সবরকম নির্যাতনমূলক-দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হতে দেয়া হবে না এবং নির্বাচনে যাবো না। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে হটিয়ে একটি নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করে আগামী দিনে নির্বাচন করব। সবাই আগামী দিনে আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আপনাদের- আমাদের সংগঠিত করছেন, আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। যেকোনো মুহূর্তে আন্দোলনের ডাক পড়বে। শতগুণ শক্তি নিয়ে রাজপথে থাকতে হবে। সব বাধা অতিক্রম এবং আঘাত করলে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আঘাত করলে আমরা নির্ভয়ে মাথা পেতে নেবো না। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ আন্দোলন, অন্য কোনো পথ নেই। প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় সমাবেশে দলের মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, এমরান সালেহ প্রিন্স, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, হায়দার আলী খান লেলিন, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, নিপুণ রায় চৌধুরী, অঙ্গসংগঠনের আফরোজা আব্বাস, সাইফুল ইসলাম নীরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, হেলেন জেরিন খান, মামুন হাসান, এস এম জাহাঙ্গীর, নুরুল ইসলাম নয়ন, আলমগীর হাসান সোহান, হাসান জাফির তুহিন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, আবুল কালাম আজাদ, ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন। আহত ও গ্রেফতার: এ দিকে সমাবেশে হামলার পর দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুলিশের গুলি ও হামলায় যুবদলের গোলাম মাওলা শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানী ও নজরুল ইসলামসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ শতাধিক নেতাকর্মীকে আটকও করেছে। রিজভী জানান, আটক নেতাকর্মীদের অন্যতম হলেনÑ ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেতা মো: মুতাছিম বিল্লাহ, বর্তমান নেতা মো: জেহাদুল রঞ্জু, মো: আবু সুফিয়ান, আবু হান্নান তালুকদার, কৃষকদলের মো: শাখাওয়াত হোসেন নান্নু, তাঁতী দলের এআরবি মামুন, আবদুর রেজ্জাক, যুবদলের মো: ফরিদ, চায়না সুমন, মো: জসিম, রেজাউল ইসলাম প্রিন্স, বিএনপির মো: সুমন, মো: রাসেল, মো: রাকিব, বদরুল, জুয়েল, মো: শুক্কুর, জাসাসের হাজী আবদুল কাইয়ুম প্রমুখ।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)