ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন:
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। শুনানিতে মামলার ২৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো: কামরুজ্জামানের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন মামলার চিফ প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল।
প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে আদালতের কাছে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এ দিন বাদি পক্ষের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার যুক্তি উপস্থাপন করবেন। তার যুক্তি উপস্থাপন শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন শুরু করবেন। চিফ প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। আসামিরা একজন ঘুমন্ত মানুষকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছেন। এ হত্যাকাণ্ডে কান্না করেছে আবরারের পরিবার, কেঁদেছে পুরো জাতি। তারা সবাই শিক্ষিত। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করছি। গত ২১ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়ার যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলার চিফ প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ২৫ আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন এবং তদন্তে প্রাপ্ত আরো ছয়জন রয়েছেন। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন এবং এজাহারবহির্ভূত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।
গ্রেফতার ২২ জন হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো: অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো: মেহেদী হাসান রাসেল, মো: মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো: মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো: মনিরুজ্জামান মনির, মো: আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো: মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও এস এম মাহমুদ সেতু। মামলার তিনজন আসামি মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ এখনো পলাতক। এদের প্রথম দুইজন এজাহারভুক্ত ও শেষেরজন এজাহারবহির্ভূত আসামি। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্রত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো: কামরুজ্জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় মোট ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে আবরারকে শেরেবাংলা হলের তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যান বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে গিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে রাত ৩টার দিকে ওই হলের সিঁড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
