ছবির ক্যাপশন:
জীবননগরে কিশোর-কিশোরী ক্লাবে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
জীবননগর অফিস:
জীবননগরে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের শিক্ষার্থীদের নাস্তায় চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সেলিম রেজার বিরুদ্ধে। ক্লাবগুলোতে জনপ্রতি ৩০ টাকার নাস্তার পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। আর বাকি টাকা যাচ্ছে ওই কর্মকর্তার পকেটে।
জানা যায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জীবননগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে একটি করে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। যার মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ক্লাবের প্রত্যেকটিতে কো-অর্ডিনেটর, জেন্ডার প্রমোটার, আবৃত্তি ও সংগীত শিক্ষক হিসেবে ২০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রতিটি ক্লাবে খাতা-কলমে ৩০ জনের নাম থাকলেও উপস্থিত হন ১৫ থেকে ২০ জন করে সদস্য। এদের সপ্তাহে দুদিন ক্লাস নেওয়া হয়। এসব কিশোর-কিশোরী ক্লাবের নাস্তা বাবদ জনপ্রতি ৩০ টাকা অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। কিন্তু তাদেরকে ১৫-২০ টাকার নাস্তা সরবরাহ করছেন মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা। বাকি টাকা যাচ্ছে কোথায়? এতে করে সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে ভুক্তভোগীরা। নিয়মানুযায়ী ক্লাবের শিক্ষক, প্রমোটার অথবা কো-অর্ডিনেটরের নাস্তা সরবরাহ করার কথা, কিন্তু উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সেলিম রেজা নিজেই সব নাস্তা সরবরাহ করেন।
সরেজমিনে বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কাগজে-কলমে ৩০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও উপস্থিত পাওয়া গেছে ১৫-২০ জন। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা থেকে ৫টা এবং শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্লাস চলার কথা থাকলেও সীমান্ত ইউনিয়নের পিচ মোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের সময় বন্ধ পাওয়া গেছে। স্কুলের বাইরে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা বলে, ‘ম্যাডাম ছুটি দিয়ে দিয়েছে। এ জন্য আমরা খেলা করছি। প্রতিদিনই উপস্থিতির কথা জানতে চাইলে তারা বলে ক্লাসে কোনো দিন ২০ জন আসে, আবার কোনো দিন ২৩ জন আসে।’ অথচ কেন্দ্রগুলোতে ৩০ জন উপস্থিত দেখিয়ে নাস্তার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে।
কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ‘আমাদেরকে কোনো দিন ছোট কেক, বিস্কুট, কোনো দিন সিঙ্গারা অথবা সামুচা কোনো দিন লাচ্ছি অথবা ছোট জুস দেওয়া হয়। এই নাস্তার মূল্য ১৫ থেকে ২০ টাকা হতে পারে। গত ৫ সপ্তাহে কোনো নাস্তা দেওয়া হয়নি।’ ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী কনিকা, রাশ মনি বলে, ‘গত এক বছরে আমাদের একটি দেশাত্ববোধক গান ও একটি আবৃত্তি শিখিয়েছে ম্যাডাম।’
নাস্তা সরবরাহের বিষয়ে শিক্ষকরা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নাস্তার জন্য কত টাকা বরাদ্দ আছে, এবিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। এটা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ছাড়া কেউ বলতে পারবে না। তিনি আমাদের হাতে যা দেয়, সেগুলো আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দিয়ে থাকি। নাস্তাটা সম্পূর্ণ দেন মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা। নাস্তার বরাদ্দ না থাকায় আমাদেরকে নাস্তা দিচ্ছে না, আমরাও দিচ্ছি না।’
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কিশোর-কিশোরী ক্লাবে যে সকল শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, তাদের সবার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক স্কুল বা শিল্পকলা থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সনদপত্র নিয়ে আবেদন করার কথা থাকলেও জীবননগরে যে সকল শিক্ষক নিযোগ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে অনেকেই কোনো সাংস্কৃতিক স্কুল বা ক্লাব থেকে প্রশিক্ষণ না নিয়েই বিভিন্ন ক্লাবের নিকট থেকে অর্থের বিনিময়ে ভুয়া সার্টিফিকেট তুলে চাকরি করছেন। যার ফলে এসকল শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের গান বা আবৃত্তি শেখাতে পারছেন না।
এবিষয়ে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, নিয়ম অনুযায়ী নাস্তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিজনকে ৩০ টাকার নাস্তা দিয়ে আসছি, কোনো কম দিচ্ছি না। এখন বরাদ্দ না থাকায় নাস্তা দেওয়া বন্ধ রয়েছে।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কিশোর-কিশোরী ক্লাবে নাস্তা বরাদ্দের বিষয়টি আমার জানা নেই। কোনো অনিয়ম হলে, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
