ছবির ক্যাপশন:
জেলা প্রশাসনের সংবর্ধনা পেল সাহসী কন্যা বর্ষা সমীকরণ প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের সাহায্য নিয়ে নিজের বাল্যবিবাহ রুখে দিয়ে সাহসীকতার পরিচয় দেওয়া দশম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তাঁকে সংবর্ধীত করে জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাকে ‘সাহসী কন্যা’ উপাধিও দেওয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থেকে ‘সাহসী কন্যা’ বর্ষার হাতে ক্রেস্ট ও ফুলের স্তবক তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন- বর্ষা নিজের সাহসীকতায় বাল্য বিবাহের অভিশাপ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে স্কুল জীবনে ফিরেছে। নিজের বাল্যবিবাহ বন্ধে সাহসী ভূমিকার কারণে সে আজ সাহসী কন্যা। অন্যদের কাছে এটি অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। বর্তমান সভ্য সমাজে বাল্যবিবাহ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বাল্যবিবাহ দেওয়া মানে সম্ভাবনাময় একটি মেয়েকে দমিয়ে দেওয়া। বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েরা শিশুবয়সে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে নিজেও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, সন্তানও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সব মানুষকে সচেতন হতে হবে। জাতীয় কন্যা শিশু দিবস অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাকসুরা জান্নাত। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাজিয়া আফরিন। এসময় আরও বক্তব্য দেন জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা (রোগ নিয়ন্ত্রণ) আওলিয়ার রহমান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাহসী কন্যা বর্ষা বলে, ‘বাল্য বিবাহের কুফল আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। কারণ আমার মায়েরও বাল্যবিবাহ হয়েছিল। যখন থেকে বুঝতে শিখেছি মাকে কখনও সুখী দেখিনি। আমার মা আমাকে এত কম বয়সে বিয়ে দিতে চাইনি, তিনি আমাকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার মামা ও খালারা মিলে ১৫ বছর বয়সে আমাকে বিয়ের দেওয়ার জন্য অনবরত চাপ দিয়েছে। যে কারণে এই বিবাহের থেকে রক্ষা পেতে আমি পুলিশের কাছে গিয়েছিলাম। পুলিশ আমাকে সহযোগিতা করেছে। আমার বিয়ে বন্ধ হয়েছে। আমি পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত ও স্বাবলম্বী হয়ে আমার মায়ের দুঃখ দূর করতে চাই।’ এসময় আরও বক্তব্য দেন- দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুন্না বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান নাবিলা রুখছানা ছন্দা প্রমুখ। উল্লেখ্য: চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী বর্ষাকে তার মামা-খালারা জোর করে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করছিলেন। তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। মুড়ি তৈরির কারখানায় কর্মরত মায়ের পক্ষে মেয়ের বিয়ে ঠেকানোর উপায় ছিল না। বাধ্য হয়ে তিনিও রাজি হন। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে বর্ষা গত মঙ্গলবার সরাসরি সদর থানায় যায় এবং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীনকে বিস্তারিত জানালে তিনি বিয়ে বন্ধ করে দেন।
