ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক: গতকাল ৩১মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে দিবস পালনে র্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সকাল ৯টার পর থেকে কর্তব্যরত সমস্ত চিকিৎসক ও নার্সেরা বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন কর্মসূচী নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন। সকাল সাড়ে ৯টায় র্যালী ও আলোচনা সভায় সকলের সরব উপস্থিতিও ছিল দেখার মত। এরমধ্যে রোগীদের ভিড় জমতে দেখা যায় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে। বেলা ১১টা নাগাদ শেষ হয় তাদের কর্মসূচী। ততক্ষণে হাসপাতালের বর্হিবিভাগের রোগীদের আসা যাওয়ায় তিলঠাঁই ছিলনা ১ম ও ২য় তলায়।
সদর হাসপাতালের কনসালটেন্টের কাছে আসা এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, আইছি অনেকক্ষণ আগে। নোংরা পরিবেশে ভীড়ের মধ্যে গরমে বসেই আছি, ডাক্তার নেই। ছেলেরে নিয়ে আইছি ভাঙা অবস্থায় ব্যান্ডেজ-ভাঙা ব্যান্ডেজ অবস্থায়ই আছে, কোনো ট্রিটমেন্ট হচ্ছে না। ওই ভাবেই পড়ে আছে। ডাক্তার ওই দিকে মিটিঙে বসে আছে, রুগীর কুনু খোজ নেই।
সরেজমিনে ১১টার পর এ প্রতিবেদক বর্হিবিভাগে বেশ কিছু সময় অবস্থান করেন, এ সময় একজন সিনিয়র কনসালটেন্টের চেম্বারে দেখা যায় পুরুষ ও মহিলা রোগীদের লম্বা লাইন। টানা দু’ঘন্টা তিনিও না থাকায় রোগীদের এই লম্বা লাইন তৈরী হয়েছে বলে জানা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা রোগী জানান, সকালে এসেছি ডাক্তার নেই। কিছুক্ষণ আগে জানতে পারলাম ডাক্তাররা সব মিটিংয়ে, দেরি হবে। এখন (১১টার পর) চেম্বারে আসলেন ডাক্তার সাহেব। তার উপর লম্বা লাইন। তিনি আরো বলেন, লম্বা লাইন ঠিক আছে। কিন্তু এখানে দেখছি ‘জোর যার মুল্লুক তার’। যারা আগে এসেছে তারা সবাই সিরিয়াল দিয়ে লাইনে দাড়িয়ে আছে। এ সময় চেম্বারে ছিলেন না আরো অনেক কর্তব্যরত দায়িত্বশীল চিকিৎসকই। তাদের কেউ কেউ মিটিং শেষে নিজ নিজ চেম্বারে ফিরেছেন। আবার কেউ রাউন্ডে গিয়েছেন। তবে টানা দু’ঘন্টার হালচিত্র দেখে বোঝার বাকী থাকেনা হাসপাতালের কী চিত্র। মাসে মাসে বিচিত্র সব সরকারি, বে-সরকারি আর স্ব ঘোষিত কর্মসূচীর কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ রোগীদের। ভূক্তভোগী রোগীদের দাবি- এ সমস্ত কর্মসূচী চিকিৎসাকালীন সময়ের পর অনুষ্ঠিত হোক অথবা চিকিৎসা সেবাদানকারী কর্তব্যরত চিকিৎসকদের আওতামুক্ত রাখা হোক। এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
